ডিজিটাল মার্কেটিং

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত। এই ডিজিটাল পদ্ধতি ব্র্যান্ড এবং ব্যবসায়ে মার্কেটিং পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন এনেছে। মূলত মার্কেটিং বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের নিকট প্রচারণা করা। আজকাল ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলো ক্রমবর্ধমান মার্কেটিং হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবস্থাকে বেছে নিচ্ছে। ডিজিটাল মার্কেটিং সময়ের সাথে আরো জনপ্রিয় ও কার্যকর হয়ে উঠছে।

১৯৭১সালে রে টমিলসন প্রথম ইমেইল পাঠান, যা ডিজিটাল মার্কেটিং এর পথ খুলে দেয়। নব্বইয়ের দশকে ডিজিটাল মার্কেটিং এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০০০সাল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যায় এবং দেখা যায় ক্রেতারা কোনো কিছু কেনার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির উপর ঝুঁকে যাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে একত্রিত হতে শুরু করে। ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তিগুলো খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিংকড ইন, ফেসবুক, ইউ টিউব, টুইটার ইত্যাদির উপর সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হতে শুরু করে। বিশেষকরে ২০১৩সালের পর থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং বেশি পরিচিতি লাভ করে। ২০১৮সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী ৫০% ক্রেতাগণ কোনো পণ্য কেনার পূর্বে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্ধান করে। পাশ্চাত্য দেশগুলোতে যার পরিসংখ্যান প্রায় ৯০%।

ডিজিটাল মার্কেটিং অনলাইন ও অফলাইন উভয়ভাবে করা যায়। অফলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমের মধ্যে রয়েছে- টেলিভিশন, এসএমএস, রেডিও, বিলবোর্ড ইত্যাদি। অনলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং মূলত ইন্টারনেট ভিত্তিক। যেমন: ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওয়েবসাইট, ব্লগিং, ভিডিও মার্কেটিং ইত্যাদি। এক কথায়, ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত মাধ্যমগুলো হলো অনলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং অন্যদিকে, ইন্টারনেটের প্রয়োজন নেই এমন মাধ্যমগুলো অফলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং। কিন্তু উভয়ক্ষেত্রেই ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োজন বলে এরা ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত। একটি স্বচ্ছ মসৃণ মার্কেটিং কৌশলের জন্য উভয় মাধ্যমই গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অল্প সময়ে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে দ্রুত কোনো ব্র্যান্ডের প্রসার করা যায়। এছাড়াও সহজে গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসে পৌঁছানো যায়, গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করে সহজে তাদের চাহিদা বোঝা যায় ও সঠিক কৌশল আয়ত্ত করা যায়, গ্রাহকদের সাথে ভালো কমিউনিকেশন গড়ে তোলা যায়, যা ব্র্যান্ড ও ব্যবসার আনুগত্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও প্রচলিত মার্কেটিং ব্যবস্থার তুলনায় কম ব্যয়ে আরো বেশি গ্রাহকদের কাছে ব্র্যান্ডকে আরো আকর্ষণীয় ও পজিটিভভাবে তুলে ধরা যায়। যা ব্র্যান্ডের প্রসারে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: Wikipedia

1 thought on “ডিজিটাল মার্কেটিং”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top