বন্ধুত্ব

বন্ধুত্ব
বর্তমান সময়ে একজন ভালো বন্ধু খুঁজে পাওয়া আসলেও কঠিন। “বন্ধুত্ব” কী? সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া, হাসাহাসি, গল্প করা, মন খুলে কথা বলতে পারাই বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন তা হলো ভালোবাসা, আত্মার টান। যেন একজন কিছু বলার আগেই অন্যজন বুঝে যায়, চেহারা দেখেই যেন অন্যের মন পড়ে ফেলতে পারে। একটু স্নেহ, মায়া, সহমর্মিতা, সততা, সমবেদনা, ভালোবাসা, মনের মিল- এসবই বন্ধুত্বের বৈশিষ্ট্য। বন্ধুত্ব হলো আত্মার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধন।

বন্ধুত্বের কোনো বয়স লাগে না। ছোট-বড় যেকোনো বয়সীদের সাথেই বন্ধুত্ব হতে পারে, যাদের সাথে আমরা খোলামেলা সব কথা বলতে পারি। বয়সে অনেক বড় অনেকের সাথে আমরা মন খুলে অনেক কথা বলতে পারি আবার অনেক উপদেশ ও পেতে পারি যা মেনে নিতে আর দ্বিতীয়বার ভাবা লাগে না। তাদের সাথে নির্দ্বিধায় হাসি-কান্না সব শেয়ার করা যায়। বয়সে অনেক ছোট অনেকের সাথে থেকেও অনেক কিছুই শেখা যায়। হয়ত ছোট বন্ধুটি কোনো একটি বিষয় এমনভাবে দেখতে পারে, যা আমরা পারি না। এভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বন্ধুত্বের বন্ধন আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে।

পিতামাতার পর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধন হলো বন্ধুত্ব। যাদের সাথে আমরা দিনের অধিকাংশ সময় কাটাই। বন্ধুত্ব ব্যক্তির মানসিক উন্নয়নে অনেক অবদান রাখে। ছোটবেলায় খেলনা ভাগাভাগি করে বন্ধুত্ব শুরু হয়। চলতে চলতে অনেক বন্ধুই হারিয়ে যায়। ভালো ও স্থায়ী বন্ধু খুঁজে পেতে ক্রমবর্ধমান অনেক জটিলতা অতিক্রম করতে হয়। ভালো বন্ধু ব্যক্তিত্বে ইতিবাচকতা এনে দেয়। অন্যথায় দ্বন্দ্ব, বিবাদ, আধিপত্য ইত্যাদি নেতিবাচকতা প্রকাশ পায়। ভালো বন্ধু পেতে মনের মিল ও অন্তরঙ্গতা থাকা প্রয়োজন। একটি ভালো বন্ধুত্ব পরবর্তী জীবনে সফল হওয়ার এবং সুন্দর ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে বন্ধু দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশ ভারতসহ আশেপাশের দেশে আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার বন্ধু দিবস পালিত হয়। কোনো কোনো দেশে ৮ই এপ্রিল পালিত হয়। ১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই, “World Friendship Crusade” এর প্রতিষ্ঠাতা বন্ধুদের সঙ্গে প্যারাগুয়ের পুয়ের্তো পিনাসাকোতে এক নৈশভোজে বন্ধুত্ব দিবসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং ৩০শে জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠান। তার প্রায় ৫৩ বছর পর, ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৩০শে জুলাইকে “বিশ্ব বন্ধু দিবস” হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

বন্ধুত্বের অস্তিত্ব আছে বলেই পৃথিবীতে শত কষ্ট, বাঁধা, বিপত্তির পরেও মানুষের মুখে এক টুকরা হাসি ফুটে উঠে। বন্ধুত্ব না থাকলে হয়ত বিশ্ব বিষণ্নতার কবলে পড়ে যেত। রোজকার সব ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, ছোট-বড় ঘটে যাওয়া ঘটনা শেয়ার করার মাধ্যমে আত্মার সাথে আত্মার যে মেলবন্ধন সৃষ্টি হয় তার নামই বন্ধুত্ব।

4 thoughts on “বন্ধুত্ব”

  1. Mounita Islam Anika

    This one is so meaningful 🥺🥺🥺🥺....to me at least 😇😇😇😇r ami tor moto ekjon k para onak bashe e blessed 😘😘😘love you more than you think 😘

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top