চা

চা খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। চা মূলত এর স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য সুখ্যাত। চা পাতাকে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াকরণ করে পানীয় তৈরি করা হয়। চা পাতা পাওয়া যায় চা গাছ থেকে। চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Camellia sinensis ।সর্বপ্রথম চায়ের প্রচলন শুরু হয় চীন দেশে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১০ শতাব্দীতে। চীনা ভাষায় চায়ের উচ্চারণ ছিল ‘চি’।

অনেক ধরনের চা পাওয়া যায়। চা ক্রান্তীয় মৌসুমী অঞ্চলের ফসল।পার্বত্য ও উচ্চভূমিতে  এর উৎপাদন হয়। বর্তমানে এটি সর্বাপেক্ষা গ্রহণীয় পানীয় দ্রব্য রূপে পরিচিত। চা উৎপাদনের জন্য অধিক পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও পর্যাপ্ত তাপের প্রয়োজন। সর্ববৃহৎ চা উৎপাদনকারী দেশ – গণতান্ত্রিক চীন, ভারত, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক অন্যতম। লিপটন, ব্রুকবন্ড প্রভৃতি চা প্রস্তুতকারক কোম্পানি বিশ্ব বাজার দখল ও খ্যাতি অর্জন করেছে।

বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চল চা উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। ব্রিটিশরা ১৮৫৫ সালে সিলেটে সর্বপ্রথম চা গাছ খুঁজে পায়। ১৮৫৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে সিলেটে চা চাষ শুরু হয়। বাংলাদেশে চা উৎপাদনের পরিমান বছরে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন কেজি এবং এখান থেকে চা রপ্তানি করা হয় ২৫ টি দেশে। বাংলাদেশের চা পৃথিবীব্যাপী “সিলেটি চা” নামে খ্যাত। একুশ শতকে বাংলাদেশ অরগানিক টী পঞ্চগড়ে চা উৎপাদন করা শুরু করেছে। এর উৎপাদক কাজী এন্ড কাজী। এছাড়াও ময়নাগুড়ি টি এস্টেট, কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট, টিটিসিএল চা বাগান রয়েছে। চা পানে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৬তম।

চা চাষের জন্য মূলত পাহাড়ি বা ঢালু জমি প্রয়োজন। জমি পরিষ্কার করে চারা রোপণ করা হয়। চারা প্রথমে পৃথক বীজতলায় রোপন করা হয়। যখন চারা ২০সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়, তখন বাগানে সারিবদ্ধভাবে রোপন করা হয়। পাঁচ বছর না হওয়া পর্যন্ত গাছগুলো যথাযথ পরিপূর্ণ হয়ে উঠে না। একটি চা গাছ ৩০থেকে৪০ বছর পর্যন্ত উৎপাদনের উপযোগী থাকে। হিউমাস সারযুক্ত এবং লৌহ মিশ্রিত দো-আঁশ মাটি চা চাষের জন্য উপযোগী। চা চাষের জন্য ১৭৫-২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত আবশ্যক। চা গাছ রোপন, আগাছা পরিষ্কারকরণ, সার প্রয়োগ করা, গাছ ছাটা, কচি পাতা চয়ন, চা-পাতা শুকানো, সেকা, প্যাকিং ইত্যাদির জন্য বহুবিধ দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন। চা পাতা সংগ্রহকারীর যথেষ্ট নৈপুণ্য ও দক্ষতা প্রয়োজন। দুটি পাতা ও একটি কুড়ি একসঙ্গে বিশেষ কায়দায় তুলতে হয়।

পরিশেষে দীর্ঘ পরিশ্রম, সাধনা ও প্রক্রিয়াকরণের পর আমরা চা পাতা পানিতে ভিজিয়ে বা গরম পানিতে ফুটিয়ে উপভোগ্য চা তৈরি করতে পারি। চা পানির পরে বিশ্বে সর্বাধিক উপভোগ্য পানীয়। এর স্নিগ্ধ, প্রশান্তিদায়ক স্বাদ অনেকেই উপভোগ করতে পছন্দ করেন।

তথ্যসূত্র: Wikipedia

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top