সময় ব্যবস্থাপনা(Time Management)

কীর্তিমান লোকেরা সময়ের মূল্য বেশি দিতেন না বরং সময়ের মূল্য বেশি দেওয়ার কারণে কীর্তিমান হয়েছেন“। কথাটি কিন্তু আজও আমরা বিশ্বাস করতে বাধ্য! কেননা,”যার কথার চেয়ে কাজের পরিমাণ বেশি সাফল্য তার কাছেই এসে ধরা দেয়”।পৃথিবীতে একমাত্র সম্পদ হলো ” সময়”-যা সকলের জন্য সমান। আমাদের স্বপ্নগুলো তখনই পূরণ হওয়া সম্ভব যখন আমরা সময়ের মূল্য দিতে পারবো। আমাদের জীবন কতটা সুন্দর বা সাফল্যমন্ডিত হবে,তার অন্যতম নির্ধারক হলো সময় ব্যবস্থাপনা বা Time Management! অর্থাৎ আমাদের জীবনে সময়ের বন্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
এই সময়টাতে এসে আমরা যে বিষয়টাকে সবথেকে বেশি অনুধাবন করতে শিখেছি,
সেই “সময় ব্যবস্থাপনা” নিয়ে কিছু আলোচনা থাকছে আজকের আর্টিকেলে। শেষ পর্যন্ত সাথেই থাকুন।

আপনার সকল কাজগুলো সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সুবিধামতো নির্দিষ্ট সময় গুছিয়ে এবং নিয়মমাফিক একটি সুন্দর পরিকল্পনা করে নেওয়ার প্রক্রিয়াটিই হচ্ছে সময় ব্যবস্থাপনা(Time Management).যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো,প্রাপ্ত সময়ের সদ্ব্যবহার করে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারলে,জীবনে সাফল্য আপনার হাতে ধরা দিতে বাধ্য।কথাটি অনেকটা নিশ্চিত হয়েই বলা যায়!

খুব কঠিন কিছু নয়, সময় ব্যবস্থাপনার এমন সহজতর ৫টি আইডিয়া শেয়ার করার চেষ্টা করব আজ,যার কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আপনার কর্মদক্ষতাকে বাড়াতে সক্ষম হবেন।
🕓5 types of
TIME MANAGEMENT TECHNIQUES & TOOL

একটি কার্য তালিকা তৈরি করুনঃ সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপটি আপনাকে অবশ্যই তালিকায় প্রথম স্থানে রাখতে হবে তা হলো, সারাদিনের কাজের তালিকা তৈরি করে নেওয়া।এখন না,সময় তো আছেই! আচ্ছা পরে করব। এটি খুবই বদঅভ্যাস বরং এর পরিবর্তে কাজে স্থির থাকার চেষ্টা করুন।আরো ভালো হয় যদি আপনি কাজের সাথে সম্ভাব্য সময়টাও পাশে লিখে রাখেন। এবং আপনি চাইলে এই কাজে ক্যালেন্ডার ব্যবহারের অভ্যাস করে নিতে পারেন।

কখনো কখনো না বলতে শিখুনঃ আপনার সামনে অনেকে, অনেক কাজের প্রস্তাব নিয়ে আসবে কিন্তু এসব পরিস্থিতিতে আপনার জন্য প্রয়োজনীয় নয় এমন কাজগুলোকে না বলতে শিখুন। এই না বলতে পারা কিন্তু সত্যি বলতে অনেক অভ্যাসের একটি কাজ! আপনি চেষ্টা করুন,আপনার জন্য প্রয়োজনীয় এমন কাজগুলোতে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার। সবসময় বন্ধুদের সব কাজে হ্যাঁ বলতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই!

কাজের জন্য নিজেকে পুরস্কৃত করুনঃ আপনার সারাদিনের পরিকল্পনা করা কাজগুলোর জন্য নিজেকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করতে পারেন। এই আইডিয়াটা আপনার কাজটা দ্রুত শেষ করতে যেমন সাহায্য করবে, একইসাথে আপনার কাজের একঘেয়েমিকে দূরীকরণের একটা দারুণ সুযোগ করে দিবে! আপনার এই কাজে আপনি ফোনে অ্যালার্ম সেট করে রাখতে পারেন কিন্তু! কেননা,এই অ্যালার্ম আপনাকে জানিয়ে দিবে যে,আপনার কাজটি করার সময় শেষ আর পুরস্কার পাওয়ার সময়ও হয়ে গেছে! এভাবে দেখবেন,আপনার সারাদিনের কাজগুলো অনেকটা আনন্দের সাথে শেষ হবে।

প্রতিদিনের কাজের মধ্যে ভিন্নতা নিয়ে আসুনঃ আমাদের ক্ষেত্রে কাজের প্রতি বিরক্তিভাব আসার প্রধান এবং অন্যতম কারণ হলো একই কাজ দিনের পর দিন করে যাওয়া। আর সত্যি বলতে,এ ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আবার এদিকে আমাদের দৈনন্দিন কাজ করতে হবে এটাও স্বাভাবিক! তাই, নিজের সারাদিনের কাজগুলো প্রফুল্ল মনে করতে আপনার জন্য দারুন একটা সমাধান হতে পারে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন কাজ করা! এখন কথা হলো,আমাদের সবার ক্ষেত্রেই এমন কিছু কাজ থাকে,যা দিনের পর দিন করতে হয়।যেমনঃ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে লেখাপড়া করা বা চাকুরীজীবিদের প্রতিদিন অফিস যাওয়া ইত্যাদি! এইক্ষেত্রে সমাধান হলো,উক্ত কাজটি বা কাজগুলো সবসময় অনেকটা ভিন্ন পদ্ধতিতে করার চেষ্টা করা যা প্রতিদিনের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও আলাদা হবে।তাহলে দেখবেন,নিয়মিত এই কাজগুলোতেও আপনার আর একঘেয়েমি সহজে আসবে না!

কাজের সময় ফোনকে নিজের ব্যবধান হিসেবে তৈরি করুনঃ ডিজিটাল এই যুগে এসে বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে,আজ আমাদের সবথেকে কাছের বস্তুটি হয়ে দাড়িয়েছে স্মার্টফোন!
আমরা অনেকটা বইয়ের স্থানও দিয়ে ফেলেছি এটাকে! কিন্তু আর যাইহোক,বাস্তবতা সবসময় এই ফোনের মধ্য থেকে খোজার চেষ্টা করাটা আমাদের জন্য বোকামি কাজগুলোর অন্যতম হিসেবে থেকেই যাবে! যখন আপনি আপনার কাজের প্রতি মনোযোগ দিবেন তখন ফোনকে রাখুন নিজের হাতের কাছে থেকে দূরে এবং সবথেকে ভালো হবে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশনগুলোর নোটিফিকেশন অফ রাখতে বা do not distrub option চালু রাখার!
দেখবেন,যেকোনো কাজই আপনি খুব সুন্দর আর আন্তরিকতার সহিত করতে পারছেন!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top