নেতৃত্ব

নেতৃত্ব একটি সামাজিক প্রক্রিয়া। বর্তমান সময়ে আমরা প্রায় সকলেই “নেতৃত্ব” শব্দটির সাথে পরিচিত। নেতৃত্ব দেওয়া নেতার কাজ। নেতা হতে হলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। অনেক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। ঘরে বাইরে সকল স্তরে একজন নেতার প্রয়োজন হয়। এটি একটি পদ হিসেবেও বিবেচনা করা যায়। এমন পদ, যে পদে থাকলে একটি নির্দিষ্ট দলকে উপস্থাপন করতে হয়। একজন নেতার তার দলের সকলের বিশ্বস্ত এবং তাদেরই একজন হয়ে উঠতে হয়।

কার্যকরী নেতৃত্বের জন্য নানা ধরনের গুণ ও কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকা অত্যাবশ্যক। নেতৃত্বের মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চালনাশক্তি, প্রাণশক্তি, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মবিশ্বাস, অনুধাবন ক্ষমতা, ধৈর্য্য, নমনীয়তা ও পরিবর্তনকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। সাথে প্রয়োজন ক্ষমতার সঠিক ও স্বচ্ছ প্রয়োগ করা। একজন নেতার সবই তার দলকে ঘিরে। তাই সবার আগে সব ধরনের মানুষের সাথে মেশার মানসিকতা থাকতে হবে। দলের সকলের মতামতকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সকলকে সাথে নিয়ে সঠিক পথে অগ্রসর হতে হবে। এক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে জানতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক প্রক্রিয়া জানা, ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের পথে অগ্রসর হওয়া একজন নেতার প্রধান গুণ। কারো উপর মতামত চাপিয়ে না দিয়ে মূল্যবোধ ও আদর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের স্পষ্টতা তুলে ধরাতে হবে।

এখন আসি ধারাবাহিক ধাপগুলো কী কী। সর্বপ্রথম কোনো বিষয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য দলের সকলকে উৎসাহ দিতে হবে। সেই বিষয়ে সকলের মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানতে হবে। এরপর আসে সমস্যা চিহ্নিত করা। সমস্যা পর্যবেক্ষণ করে অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা কাজে লাগিয়ে একটি সমাধান প্রতিষ্ঠা করা। সমাধান নিয়ে দলের সকলের সাথে আলোচনা করে এর স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা তুলে ধরা। সবশেষে সকলে একমত হয়ে একসাথে সঠিক পথে অদম্য শক্তিতে এগিয়ে যাওয়া। চলার পথে সকল পরিবর্তনকে মানিয়ে নিয়ে উন্নতির পথ প্রশস্ত করে এগিয়ে যাওয়া। এজন্য প্রয়োজন প্রচুর ধৈর্য্য। যা সময়ের সাথে সাথে অর্জন করতে হয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে ইতিবাচক মতামত প্রদান করাও ধৈর্য্যের ফল।

নেতৃত্ব দানের ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক কিছু বিষয় ও কাজ করে। নেতার আবেগ ও আচরণ দলের সকলের উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে। যে দলের নেতা যত বেশি ইতিবাচক, সে দল তত বেশি প্রাণবন্ত। নেতার প্রতি দলের সদস্যদের আবেগবহুল প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা একান্ত প্রয়োজন। এসবই একজন নেতার ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ফসল।

ব্যবস্থাপনা” ও “নেতৃত্ব” দুটি বিষয় এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে এ বিষয়ে না বললেই নয়। একজন ব্যবস্থাপক তার কর্মীদের নির্দেশ দেন আর কর্মীরা তা এক বাক্যে মেনে নেয়। ব্যবস্থাপক তার কর্মীদের সাথে মতামত নিয়ে আলোচনা করবেন না। অপরদিকে নেতা হলেন এমন একজন মানুষ যিনি একদল মানুষকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। দলের সাথে কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে সকল পরিস্থিতি সামাল দেন। নেতার এরূপ বৈশিষ্ট্যের জন্যই তিনি দলের সকলকে আপন করে নিতে পারেন এবং দলের সকলের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেন। যা তাদের লক্ষ বাস্তবায়নের পথ আরো সহজ করে দেয়।

এক্ষেত্রে কিছু সমালোচনামূলক চিন্তাধারাও রয়েছে। অনেকে আবার নেতৃত্বের বিষয়কে ভুলভাবে নেয়। অনেকে নেতার উপর নির্ভর করে নিজের সব চিন্তা ঝেড়ে দেয়। তখন নেতার দায়িত্ব তার দলের ঐ সদস্যকে সেখান থেকে বের করে এনে তার মতামত দেওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া, তার জ্ঞান- বিবেকশক্তিকে জাগ্রত করতে সাহায্য করা। আবার অনেকের মনে হতে পারে নেতা যদি অন্যের মতামতই নিয়ে কাজ করে তাহলে তার পদের দরকার কী? দরকার আছে। সমাজে সকলের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি, বোঝার ক্ষমতা, ব্যক্ত করার ধরন এক নয়। একজন কার্যকরী নেতাই পারেন দলের সকলের মাঝে সমন্বয় সাধন করে সকলকে একজোট করতে। এজন্য একজোট হতে হলে অবশ্যই একজন নেতার প্রয়োজন।

সর্বোপরি, একটি দলকে একজোট করে, তাদের সাপোর্ট হয়ে উৎসাহ দিয়ে, তাদের মধ্যকার প্রতিভা বিকশিত করে, দায়িত্ব নিয়ে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাই নেতৃত্ব। এই ক্ষমতার যে কার্যকর প্রয়োগ করতে পারে, সেই হয়ে ওঠে একজন সার্থক নেতা।

3 thoughts on “নেতৃত্ব”

  1. অসাধারন ছিল লেখাটি....ধন্যবাদ।।অনেক কিছু জানলাম🖤

  2. আশুরা রহমান মেঘলা

    সত্যিই অসাধারণ,সঠিক এবং নিখুঁত 💝

  3. Shahriar Islam Shihab

    খুব সুন্দর ছিলা লেখাটা।🌹এখানে, একটা বিষয় একটু যুক্ত করতে চাই। একটা দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন সঠিক নেতার বিকল্প নেই। তবে নেতৃত্বচর্চার জন্য সবসময় নেতা হওয়ার প্রয়োজন নেই। যেকোনো ব্যাক্তিই তার জায়গা থেকে নেতৃত্বচর্চা করতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top