আইসব্রেকিং সেশনঃ সভা/সম্মিলনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের এনগেজমেন্ট বাড়ানোর এক অনন্য উপায়

আইসব্রেকিং শব্দটা শুনে অনেকে ভাবতে পারেন, আমি হয়তোবা বরফ ভাঙার কোন যন্ত্রের কথা বলছি। আপনাদের এই ধারণাটি সঠিক তবে কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে।

চিন্তা করুন, আপনি একটি একটি ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করলেন। আর এই ওয়ার্কশপটির রিসোর্স পারসন একটানা শুধু কথা বলেই যাচ্ছেন।থামার কোন অবকাশ নেই। আর এদিকে আপনার মধ্যে একঘেয়েমিতা চলে আসলো। আপনার মনে হচ্ছে, কেন যে এখানে আসলাম, ধূর! শুধু শুধু সময়গুলোর অপচয় হলো। না আসলেই ভালো হতো। এত কষ্ট করে এসে কোন লাভ হলো না। তদ্রূপ অবস্থা আপনার আশেপাশের অনেকেরই হচ্ছে।

একই অবস্থা বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যে আপনারা পার করে এসেছেন। শুধু আপনার স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলোর কথা চিন্তা করুন। কোন স্যার বা ম্যাডাম যখন ঘন্টার পর ঘন্টা লেকচার দিয়েই যান তখন নিশ্চয়ই আপনাদের পরিস্থিতি সুখকর লাগবে না। একই অবস্থা বিভিন্ন টিম মিটিং, পুনর্মিলনী বা অনেক ক্ষেত্রেই হতে পারে।

আর এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো বক্তারা শ্রোতাদের মানসিক অবস্থা আর বক্তার কাছ থেকে কি আশা করছেন এই বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হন। তাই শ্রোতারাও তাদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারেননা।

আর অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বক্তারা কিভাবে শ্রোতাদের সাথে প্রতিটি সেকেন্ড সংযুক্ত থাকা যায় তা নিয়ে কাজ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেই জনপ্রিয় বক্তাদের অনেকেই যেই কাজটি করে থাকেন তা হলো গিয়ে আইসব্রেকিং বা বরফ ভাঙা।

সাধারণত সভা/সেমিনারগুলোতে বেশিরভাগ শ্রোতাই একে অপরের সাথে অপরিচিত থাকেন। আর তাঁদের মনে দ্বিধা, সংশয়ের বরফ জমাটবদ্ধ হয়ে থাকে। আর বরফভাঙার কাজটি অবশ্যই বক্তাকেই করতে হবে। এমনকিছু করা যাতে বক্তাগণ পূর্ণসময় ধরে শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হন।

একটা ট্রেনিং বা ওয়ার্কশপের কথা চিন্তা করুন। সাধারণত বেশিরভাগ শ্রোতা/অংশগ্রহণকারী পরস্পরের অপরিচিত থাকেন। একজন বক্তা হিসেবে আপনি আপনার ওয়ার্কশপ শুরুর আগে দেখবেন, কেউ মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছেন, কেউবা ভাবনায় আছেন আর কেউবা কলম আর নোটপ্যাড খুলে বসে আছেন।

একজন বক্তা হিসেবে নিশ্চয়ই এই বিষয়টি উপভোগ করতে চাইবেন না।আর এই বিষয়টি থেকে উত্তরণ ঘটাতে আপনি আপনার বক্তব্যের শুরুতেই একটি আইসব্রেকিং সেশন নিতে পারেন।

আপনি এটি অনেকভাবেই করতে পারেনঃ

১.পার্টিসিপেন্টদের ওয়ার্মআপ করানো

অাপনি খেয়াল করে দেখবেন অনেকে জনপ্রিয় বক্তাই তাঁর শুরুতে পার্টিসিপেন্টদের শুরুতেই একটি মজার ব্যায়াম করতে বলেন। যেমনঃ সিট থেকে উঠে দাড়াতে, হাত-পা নাড়াতে তারপর ঘুরে দাড়িয়ে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন যে, শ্রোতারা এটি অত্যন্ত উপভোগ করছেন আর তাঁরা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে বক্তব্য শুনছেন।

২. হিউমার বা হাস্যরস দিয়ে বক্তব্য শুরু করা

যেকোন বক্তব্যের শুরুতেই বেশিরভাগ শ্রোতারা আনমনা হয়ে গুটিসুটি হয়ে বসে থাকেন। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থান এবং পরিবেশ শ্রোতাদের জন্য প্রায় নতুনই হয়ে থাকে। আর বেশিরভাগ শ্রোতাই একে অপরের সাথে অপরিচিতই থেকে যান। একজন বক্তার জন্য এই বিষয়টি অত্যন্ত অপ্রীতিকর। একজন বক্তা হিসেবে আপনার মূল দায়িত্ব শুরুতেই শ্রোতাদের মাঝে গুমোটভাব দূর করা। আর এ কাজটি করার জন্য অনেক বক্তারা কোন মজার ঘটনার অবতারণার মাধ্যমে তার বক্তব্য শুরু করেন। এতে শ্রোতারাও উৎফুল্ল হয় আর তাদের মাঝে জড়তা কেটে যায়। আর এভাবেই অত্যন্ত কার্যকর আইব্রেকিং সেশন নেওয়া যায়।

৩. কুইজ/গিফট

মানবমনের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষ যখন কোন কিছু অর্জন করে তখন তার আনন্দের সীমা থাকে না। একজন বক্তা হিসেবে আপনি এই বিষয়টিকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাজে লাগাতে পারেন।

কোন সভা/সেমিনার/ক্লাস বা ওয়ার্কশপে আপনার বক্তব্য দেওয়ার শুরুতেই আপনার শ্রোতাদের বলে দিতে পারেন, আপনার বক্তব্যের শেষে কিছু কুইজ/প্রশ্ন করা হবে আর বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার থাকবে। তারপর আপনি আপনার বক্তব্য সাবলীলভাবে শুরু করতে পারেন আর শ্রোতারা তন্ময় হয়ে আপনার বক্তব্য শুনতে থাকবে। এই বিষয়টি একটি কার্যকর আইসব্রেকার হিসেবে কাজ করবে। আর বক্তব্য শেষে আপনি কুইজ আয়োজন করে গিফট প্রদানের মাধ্যমে আপনি নিঃসন্দেহে অনেকের মন জয় করে নিতে পারবেন যাদ্বারা পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে উপকৃত হতে পারেন।

৪.যেকোনো শ্রোতাকে মাইকে কোন কথা বলতে দেওয়া

শ্রোতারা আনমনা হয়ে গুটিসুটি হয়ে বসে আছেন। হঠাৎ বক্তা এসেই একজনকে মাইক ধরিয়ে দিলেন। ঠিক সেই মূহুর্তেই জমাটবদ্ধ বরফ গলে গিয়ে সবার আকর্ষণ চলে গেলো মাইকের দিকে! আর তারপর বাকি সেশনটুকু শ্রোতারা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকলেন! একজন বক্তা হিসেবে অনেকেই করেন কি যেকোনো একজন শ্রোতার হাতে মাইকটি ধরিয়ে দেন আর পার্টিসিপ্যান্ট/শ্রোতা এই সেশন থেকে কি আশা করেন তা জানতে চান। এতে হয়কি বক্তা মূহুর্তের মধ্যেই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন আর শ্রোতারা কি আশা করছেন তা বুঝতে পারেন আর ঐভাবেই তার বক্তব্য চালিয়ে যেতে পারেন। একজন বক্তা হিসেবে এই বিষয়টি খেয়াল রাখলে আপনি সকলের মনোযোগ শুরুতেই আপনার দিকে আকর্ষণ করাতে পারবেন যা আপনার বাকি কাজটুকু সহজ করতে সহায়তা করবে।

এগুলো হচ্ছে আমার দেখা সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু পদ্ধতি। আপনি যদি আপনার বক্তব্যের শুরতে এধরনের একটি দারুণ আইসব্রেকিং সেশন নিতে পারেন, আপনার বক্তব্য নিঃসন্দেহে নজরকাড়া হবে আর শ্রোতা বা পার্টিসিপ্যান্টরাও আপনার বক্তব্য সাবলীলভাবে উপভোগ করবেন।

এছাড়াও আপনি বিভিন্নভাবে আইসব্রেকিং সেশন সম্পন্ন করতে পারেন। আপনি যদি এসংক্রান্ত আরো টিপস খুঁজতে চান thebalancecareers.com ভিজিট করতে পারেন, কিছু ভালো আর্টিকেল পাবেন আর গুগল তো আছেই!

1 thought on “আইসব্রেকিং সেশনঃ সভা/সম্মিলনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের এনগেজমেন্ট বাড়ানোর এক অনন্য উপায়”

  1. Md. Jahid hasan Joni

    ব্লোগটি আমার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিল ভাইয়া। অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। বিভিন্ন টপিকের উপর আরো বেশি বেশি ব্লোগ চাই আপনার❤️

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top