A Woman’s Self Defence

“It’s always better to be a warrior in a garden than a gardener in a war.”

– A Chinese Proverb

ওমেন`স সেলফ ডিফেন্স মানে, নারীদের আত্মরক্ষার কলা-কৌশল শেখার প্রয়োজন ঠিক কতটা তা হয়তো কাওকেই ভেঙে বলার প্রয়োজন আজকের দিনে নেই। আজকের দিনে নারীরা, যাদের বাড়ির বাইরে পা রাখা মানেই প্রতিনিয়ত নিজের অস্তিত্বকে সামলে রাখার যুদ্ধ করতে হয়, এই মানসিক ভারসাম্য হারানো সমাজে তার বসবাস করতে হয়, তারা কিভাবে নিজেদের আত্মরক্ষা করবে তা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান থাকা আবশ্যক, কেননা নিজের সম্মান নিজেরই হাতের মুঠোয়। আজকের সমাজ আপনার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আপনার ভিডিও করতে পারবে কিংবা সেটা নিয়ে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিতে পারবে তবে সে আপনাকে রক্ষা করতে পারবে না । পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায় যে,প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন নারী তার জীবদ্দশায় একধরণের হিংস্র আক্রমণের শিকার হবেন অর্থাৎ মৌখিক কিংবা যৌন হয়রানি। তাই কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো আমাদের সব সময় মাথায় রাখতে হবে যেন আমরা নিজেদের আত্মরক্ষা নিজেরাই করতে পারি।

 

১। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে নিজের উপর বিশ্বাস রাখুনঃ

অনেক মেয়েরা যারা কোন অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছেন তারা সবসময়ই একটা কথা বলেন যে, ”আমার মন বলেছিল যে আমার কাজটা করা ঠিক হবে না” অথবা “আমার ঐখানে যাওয়াটা ঠিক হবে না কিন্তু আমি কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি”। অর্থাৎ যদি কিছু ঠিক বা নিরাপদ না মনে হয় তবে নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বর টাকে উপেক্ষা করা উচিত নয় কেননা আপনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মানসিক ক্ষমতাটাই আপনাকে বিপদ থেকে দূরে রাখার সর্বোত্তম পথ।

 

২। নিজেকে কখনো আক্রমণকারীর টার্গেট হতে দিবেন নাঃ

নিজেকে একটি লক্ষ্য হিসাবে পরিণত করবেন না। আপনার যখন মনে হবে যে কোন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে তখন কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার আগে সময় থাকতেই সুযোগ বুঝে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করুন । কে আপনার দিকে কেমন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে সেটা অনুমান করুন। যদি আপনি কারোর দৃষ্টিভঙ্গি দেখে বিপদের আভাস পান তাহলে তার থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করুন। তার সাথে কোন রাস্তা দিয়ে একা চলাচল করা বা একা লিফটে ওঠা এড়িয়ে চলুন।

 

৩। আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেকে উপস্থাপন করুনঃ

আপনার আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি আপনার চারপাশের লোকদের জন্য যে বার্তা প্রেরণ করে সে সম্পর্কে সচেতন হন। আক্রমণকারী তাদেরকে নিজের লক্ষ্য করে যাদেরকে তারা দুর্বল বা সবচেয়ে দুর্বল বলে মনে করে। এমন নারীদের সন্ধান করে যারা ভীত বা বিভ্রান্ত এবং যারা মাথা নীচু করে হাঁটেন। মনে রাখবেন যে, আক্রমণকারীরা কোন লড়াইয়ে যেতে চায় না; তারা একটি সহজ Victim চান। আত্মবিশ্বাস এবং সচেতনতার সাথে সবসময় চারপাশের অবস্থার দিকে লক্ষ রেখে মাথা উঁচু করে হাঁটলে – আপনি প্রাথমিকভাবে আক্রমণকারীর লক্ষ্য হওয়ার সম্ভাবনা নাটকীয়তার সাথে কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

 

৪। নিজের কথা বলার মধ্যে দৃঢ়তা আনুনঃ

আপনার কথা বলার ধরন আপনার আত্মবিশ্বাস জোগানোর জন্য এবং আপনার আত্মরক্ষার জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। যখন কোন আক্রমণকারী আপনাকে কথপোকথনে জড়াতে চায় তখন আসলে সে যাচাই করছে যে আপনি ভাল Victim হবেন কিনা। একজন অভিজ্ঞ আক্রমণকারী তার কথার সাহায্যে আপনাকে প্রচন্ড ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা করে, এবং আপনি যেন নিজের প্রতিরক্ষা করার চেষ্টা না করেন তা নিশ্চিত করতে চায়। সেক্ষেত্রে একটি দৃঢ় কথা বলার দক্ষতা আক্রমণকারীকে ঘাবড়ে দিতে পারে। মাথা উঁচু রেখে, শান্তভাবে আত্মবিশ্বাসের এবং দৃঢ়তার সাথে কথা বলে আপনি আক্রমণকারীর কাছে নিজেকে একটি ভুল Victim হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন।

 
৫। আক্রমণকারীর সামনে প্রথমে সরাসরি বিরোধিতা (defense) করা এড়িয়ে চলুনঃ

বেশিরভাগ আক্রমণকারীর আত্মবিশ্বাস যে আপনি নিজেকে রক্ষা করবেন না, এবং আপনার সেই ভুল ধারণাটিকেই পুঁজি করা উচিত। আপনি যদি শুরুতেই মার্শাল আর্টের অবস্থান গ্রহণ করেন তবে তা সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণকারীকে জানিয়ে দেয় যে আপনি কীভাবে লড়াই করতে হয় জানেন। প্রতিক্রিয়া হিসাবে সে সম্ভবত আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে। অতএব তার পরিবর্তে একটি আত্মবিশ্বাসী শিথিল অবস্থান গ্রহণ করুন, শরীর দৃঢ় তবে আপনার হাতগুলি বাঁকানো এবং খোলা রাখুন। এই সম্মিলিত ভঙ্গি আক্রমণকারীকে ভাবাতে পারে আপনি দুর্বল এবং সহজেই হার মানবেন । এমন সময়ে আক্রমনকারী আক্রমণ করলে সে আপনার পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকবেনা।

 

৬। একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুনঃ

প্রত্যেকেরই একটি ব্যক্তিগত জায়গা (comfort zone) রয়েছে। আক্রমণকারী যখন সেই জায়গায় প্রবেশ করে, আপনি অস্বস্তি বোধ করছেন কারণ আপনি জানেন যে আপনাকে যদি লড়াই করতে হয় তবে আপনাকে সেই জায়গার প্রয়োজন হবে। আপনি যখন এমন অবস্থায় থাকবেন তখন আক্রমণটির প্রতিক্রিয়া জানাতে আপনার এক সেকেন্ড সময় লাগবে। আপনি যখন আপনার comfort zone এ থাকার কথা ভাববেন তখন আপনি  এই “Reactionary gap” এর কথাও মাথায় রাখবেন। 

আপনার নিজের এবং আক্রমণকারীর মধ্যে প্রায় এক থেকে দেড় হাত দুরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত। যদি সে কাছে আসতে শুরু করে তবে আপনার সরে যেতে হবে। যদি সে তারপরেও  পিছিয়ে না যায় তবে আপনি তাকে আঘাত কারার জন্য প্রস্তুত  হওয়ার সময় এসেছে।

 

৭। আপনার কৌশলগুলো সহজ এবং আয়ত্তের মধ্যে রাখুনঃ

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আপনার কাছে কিছু জরুরি জিনিস পত্র আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন যেমন হাতের কাছে সবসময় পেপার স্প্রে, ছোট চাকু, কেঁচি রাখুন।

আপনার ফোনে পর্যাপ্ত পরিমান চার্জ আছে কিনা আপনার ফোনে জরুরি কল করার জন্য ব্যালেন্স আছে কিনা সব দেখে নিতে হবে।

এছাড়াও আপনার আপনজনদের মোবাইল নাম্বার এবং পুলিশ হেল্পলাইন নাম্বার (৯৯৯) সব সময় মাথায় থাকতে হবে।

এরপরেও মেয়েরা তাদের নিজেদের প্রতিদিন ব্যবহারের জিনিসপত্র থেকে কোন কোন জিনিস আক্রমণকারীকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবে যেমন খোপার কাটা, সেফটিপিন বা হিজাবের পিন, হিল জুতা, হাতের নখ।

নিজেদের আঙুল, নখ, হাত, পা, কনুই, হাঁটু এবং মাথা ব্যাবহার করে পুরুষের দুর্বল স্থান গুলো যেমন চোখ, নাক, কান, ঘার, গলা, নাভি, পাজরের নিচে দুই পাশে এবং অন্ডকোষে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আঘাত করুন।

 

৮। বিপদের সম্মুখীন হলে সাথে সাথে আতঙ্কিত হয়ে পড়বেন নাঃ

অনেক মেয়েরাই কোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়লে সাথে সাথে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং যার ফলে তারা বুঝে উঠতে পারেনা যে ঠিক কি করা উচিত। অতএব আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থেকে নিজের উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগান। সুযোগ থাকতে আপনার মোবাইল ফোনটি বের করে কোন আপনজনকে কল দিয়ে আপনার অবস্থান জানিয়ে দিন অথবা আপনি আপনার এন্ড্রয়েড ফোনে Emergency SOS (Save your soul) সিস্টেমটি সেট করে রাখতে পারেন সেটির মাধ্যমে, শুধুমাত্র আপনার ফোনের পাওয়ার বাটন একসঙ্গে পরপর তিনবার চাপলে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ডর মধ্যে SOS মেসেজের প্রক্রিয়া শুরু হবে ( স্ক্রিন অফ থাকা অবস্থায় আপনা আপনি ডাটা,ওয়াইফাই,লোকেশন,ক্যামেরা,মাইক্রোফোন অন হয়ে যাবে ) এবং ১ মিনিটের মধ্যে ভয়েস, আপনার লোকেশন, ছবিসহ মেসেজ চারজনের কাছে চলে যাবে ।

SOS Message চালু করার জন্য আপনার ফোনের সেটিংসে গিয়ে SOS লিখে সার্চ দিন এবং এরপর ক্লিক করলে চিত্রের মত তিনটি অপশন পাবেন সেগুলো অন করে রাখুন এবং সর্বোচ্চ চারজনের নাম্বার যুক্ত করুন ,তাহলেই হয়ে যাবে ।

অতঃপর, সবচেয়ে বড়কথা আক্রমণকারীকে কখনো বুঝতে দেওয়া যাবে না যে আপনি আতংকিত বা আপনি ঘাবড়ে গিয়েছেন।

 

৯। মাঝপথে হাল ছাড়বেন নাঃ

আপনি যতক্ষণ না পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন যে আপনি নিরাপদ ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার নিজের ১১০% দিয়ে নিজের সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করে যেতে হবে। কেননা আপনি যদি মাঝপথে দুর্বল হয়ে পড়েন তাহলে আক্রমণকারীর জন্য পাল্টা আক্রমণ করা যেমন আরও সহজ হয়ে যাবে তেমনি আপনার বাঁচার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে আসবে। অতএব, আপনি সম্পূর্ণভাবে বিপদমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত হার মানলে চলবেনা।

 

…সকলের উদ্দেশ্যে, আমার কিছু কথা…

 

“আমি নারী

আমি, তোমাকে জন্ম দিয়েছি

আমি, তোমাকে সাহস দিয়েছি

আমি, তোমাকে মমতা দিয়েছি

আমি, তোমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছি।

 

আজ আমি ক্লান্ত,

তোমাদের প্রতিবাদ দেখতে দেখতে ক্লান্ত,

তোমাদের অঙ্গীকার শুনতে শুনতে ক্লান্ত,

তোমাদের উপর বিশ্বাস করে ক্লান্ত

কেননা আমি আজও একা বাড়ি থেকে বাইরে এক পা বের করার সাহস পাই না।

 

অনেক করেছ প্রতিবাদ! লাগবে না আর..

আজ আমি নিজেই নিজেকে বাঁচাবো,

আমার ছেঁড়া কাপড় আজ আমি নিজে হাতেই সেলাই করবো।”

 

Seed to BIG এর আমরা সকলেই ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস রাখি এবং আমরা অবশ্যই এমন একটি সমাজ চাই যেখানে সকল নারী একশতভাগ নিরাপদে অবস্থান করতে পারবে। যার জন্য আমাদের সকলেরই উচিত নিজেদের স্থান থেকে যতটুক সম্ভব কিছু না কিছু করা।

আমাদেরও অর্থাৎ Seed to BIG এর প্রচেষ্টা থাকবে যেন আমরা এমন আরো নানান ধরনের সচেতনতামূলক content আপনাদের জন্য নিয়ে আসতে পারি।

 

পরিশেষে, আপনাদের সকলের কাছে একটি অনুরোধ থাকবে যেন আপনারা আপনার পরিচিত সকল মেয়ের সাথে এই ব্লগটি Share করবেন যেন আমরা কিছুটা হলেও তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি।

 

সচেতন থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top