Communication Skill by Mehjabeen Noor

পৃথিবীতে সবচেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো ‘কমিউনিকেশন’ বা ‘যোগাযোগ’। আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় কমিউনিকেশন স্কিলে দক্ষতা অর্জনকে ততটা জোর দেয়া হয় না।
আপনি কর্মজীবী হোন বা শিক্ষার্থী অন্যদের চেয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে যোগাযোগে দক্ষতা অর্জন আপনার জন্য জরুরী।
আর এ জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো ছাত্রজীবন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে কীভাবে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন, সে বিষয়ে এ ব্লগ টি।

১। অপরজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুনঃ

খেয়াল করে দেখুন, আমাদের আশেপাশে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা শুধু নিজেরাই কথা বলে যায়, অন্য মানুষ কী বলছে তাতে কিছুই যায় আসে না। এরকম মানুষকে আপনার কখনোই ভালো লাগবে না যে শুধু নিজেই বলতে চায়, আপনারটা শুনতে চায় না।
আবার এমন অনেকে এখনো আপনার হৃদয়ে জায়গা করে আছে; যারা খুব বেশী কিছু বলেনি কিন্তু মনোযোগের সাথে আপনার প্রতিটা কথা শুনেছে এবং আপনার কথায় সাড়া দিয়েছে। কাউকে ভালোভাবে বুঝতে হলে তার প্রতিটা কথা মন দিয়ে শুনতে হবে, হৃদয় দিয়ে শুনতে হবে।
সফল ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনার দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তাই যখনই আপনি কারো সাথে কথা বলবেন তার কথা আগে মনোযোগ দিয়ে শুনুন সে কী বলতে চাইছে তার মনোভাব বোঝার চেষ্টা করুন। বক্তার কথা শেষ হয়ে গেলে তবেই প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করুন। এতে করে খুব সহজেই আপনি তার মন জয় করে নিতে পারবেন।

২। ‘ননভার্বাল’ যোগাযোগ বা শরীরি ভাষাঃ

আপনি একজনের সাথে কথা বলছেন আর সে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে বা মোবাইল টিপছে। এমন মানুষকে কখনো ভালো লাগবে? অবশ্যই না। সারা পৃথিবীতে রেডিও-এর চেয়ে টিভি অনেক বেশি জনপ্রিয় কিংবা অনেক বেশি ভালো যোগাযোগের মাধ্যম। কারণ টিভিতে আপনি বডি ল্যাংগুয়েজ বুঝতে পারছেন। আপনি শতকরা ৬০ ভাগ ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন করতে পারেন সামনা-সামনি, নয়তো ভিডিও কমিউনিকেশনে। মানুষের শরীরের অঙ্গভঙ্গি অনেক কিছু বলে দেয় যা টেক্সট বা অডিও সেটাকে ধারণ করতে পারে না।
মুখের হাসি, চোখে চোখে তাকানো (আই কন্টাক্ট), হাতের অবস্থান কিংবা নড়াচড়া—এসবও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কথা নয়, শরীরী ভাষাও অন্যের সঙ্গে আপনার সফল যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে।

৩। নব্বই সেকেন্ড রুলসঃ

আমরা যখন কোন ম্যাগাজিন দেখি তখন আমাদের মস্তিষ্ক ২ সেকেন্ডেই ঠিক করে ফেলে ম্যাগাজিনটি পড়বো কী পড়বো না। ম্যাগাজিনের কভার আকর্ষণীয় হলেই আমরা সেটা খুলে দেখি। ঠিক তেমনি কোন ব্যক্তি আপনাকে কেমন ভাবে গ্রহণ করবে তা প্রথম দর্শনের নব্বই সেকেন্ডের মধ্যেই ঠিক করে ফেলে ।
অর্থাৎ তিনি আপনাকে পছন্দ করবে কিনা বা কতটা পছন্দ করবে তা নির্ধারিত হয় মাত্র নব্বই সেকেন্ডে। সুতরাং প্রথম নব্বই সেকেন্ড নব্বই বছরের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অঙ্গভঙ্গি, অভিব্যক্তি ও কন্ঠস্বরের যথার্থ ব্যবহার করুন এই নব্বই সেকেন্ডে। আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গীতে কথা বলুন চোখে চোখ রেখে আর হরণ করুন সদ্য পরিচিত হওয়া মানুষটার হৃদয়।

৪। হাসি-খুশি থাকাঃ

কারো মন জয় করতে মোক্ষম অস্ত্র হাসি। হাসি দিয়ে যেমন কারো মন জয় করা যায় তেমনি কারো রাতের ঘুমও কেড়ে নেয়া যায়। আর যখন তা প্রথম পরিচয়ের ব্যাপার হয় তখন তো হাসিই ভরসা। একটি চমৎকার স্মিত হাসি হাজার কথার চেয়েও মধুর। তাই কথা বলার সময় একটা অকৃত্রিম হাসি চোখে মুখে ফুটিয়ে তুলুন। মানুষ অনুকরণপ্রিয়। তাই আপনার হাসি মুখ সামনের মানুষটির মুখেও হাসি ফুটিয়ে তুলবে যা আলাপ করে তুলবে আরো প্রাণবন্ত।

৫। পরামর্শ নিনঃ

যোগাযোগ–দক্ষতার কৌশল আয়ত্তের জন্য আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীর পরামর্শ নিতে পারেন। আপনি যে ক্ষেত্রে পেশা গড়তে চান কিংবা যে বিষয়ে পড়ছেন, তা সম্পর্কে কী কী যোগাযোগ–দক্ষতা প্রয়োজন, তা জানতে পরামর্শ নিন। যোগাযোগ–দক্ষতা বিকাশের জন্য কোচ বা মেন্টর নির্বাচন করে তাঁর কাছ থেকে হাতে–কলমে শেখার চেষ্টা করুন। ‘কথা বলা আবার শেখার কী আছে’—এমনটা ভাববেন না।

৬। নেতৃত্ব বিকাশ করুনঃ

যোগাযোগ–দক্ষতা আপনাকে যেকোনো ক্ষেত্রে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ করে দেবে। কোনো দলের নেতা বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক হওয়ার পর কেউ যোগাযোগ–দক্ষতা প্রকাশ করে না। যোগাযোগ–দক্ষতা বিকাশে যেকোনো ব্যক্তিই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষানবিশ থেকে কর্মকর্তা হতে পারেন, দলের সাধারণ সদস্য থেকে হয়ে চলে যেতে পারেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের জায়গায়।

৭। অপ্রাসঙ্গিক শব্দ বর্জনঃ

আপনার দৈনন্দিন যোগাযোগকে আরো আকর্ষনীয় ও বোধযোগ্য করতে অপ্রাসঙ্গিক শব্দগুলো বর্জন করুন। যেমন: হুম, অহ, আ, ঠিক আছে ইত্যাদি। আপনার স্বল্প চেষ্টাতেই শব্দগুলো মুছে যাবে। যদি কথা বলার সময় শব্দগুলো চলেই আসে তাহলে একটু সময় নিন ও বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, যত চেষ্টা করবেন তত বেশি সাধারণ হবে।

৮। সঠিক শব্দ ব্যবহারঃ

কথা বলার সময় সঠিক শব্দ ব্যবহার করা জরুরি। কোন শব্দ ব্যবহারে নিশ্চিত হতে না পারলে তা বর্জন করাই শ্রেয়। সঠিক উচ্চারণ এবং কথা বলার গতি ও শব্দের তীব্রতাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ যাতে অন্যদের আগ্রহ ধরে রাখা যায়। জড়তা কাটিয়ে কোন বিষয়ের ওপর স্পষ্ট বক্তব্য শ্রোতারা লুফে নেয়। শ্রোতাদের কাছ থেকে সাড়া নিয়ে তাদের মতামত জানলে আত্মবিশ্বাস জন্মায়। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের পরামর্শ কাজে লাগবে।

আপনার জীবনের সফলতা বা ব্যর্থতা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার যোগাযোগের দহ্মতার উপর। কমিউনিকেশন স্কিল একদিনেই ইমপ্রুভ করা বা পাল্টে ফেলা যায় না। এটি একটি দীর্ঘতর প্রক্রিয়া। উন্নততর যোগাযোগকারি হওয়া তেমন কঠিন নয়। সঠিক জ্ঞান ও যুক্তিযুক্ত ক্রিয়ার মাধ্যমেই যোগাযোগ দক্ষতাকে শানিত করে তোলা সম্ভব।

নামঃ মেহজাবিন নূর
কলেজঃ এমসি কলেজ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top