Critical Thinking By Mehnaz

#Blog_Name: মানুষ কেন কাঁদে?

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের দু’চোখ দিয়ে পানি বের হয়, সেই পানি কে মানুষ “কান্না” নাম দিয়েছে। সময়ের শুরু থেকেই এই কান্নার অনিভূতিটা মানুষের জন্য বিস্ময়কর ছিলো। মানুষ কেনো কাঁদবে? কখন কাঁদবে? কান্না কি নিয়ন্ত্রণ করা যায়? এসকল প্রশ্নের উৎপত্তি থেকেই শুরু হয়ে মানবিক চোখের পানি নিয়ে যত গবেষণা। কেননা, পশু পাখির চোখ দিয়েও পানি বের হলেও একমাত্র মানুষ ই কি না সুখেও কাঁদে আবার দুখেও কাঁদে!!! কি একটা অবস্থা!

চোখের পানি এই গবেষণা করতে গিয়ে দেখা যায় যে, এই সামান্য চোখের পানিও আবার ৩ প্রকার। প্রথমটি হলো “বেসাল টিয়ার্স”, বেসাল টিয়ার্স আপনার চোখের পাতা ওঠা-নামা করতে সাহায্য সাহায্য করে। কারণ এর মাধ্যমে চোখ পিচ্ছিল থাকে। এটি তিনটি লেয়ার দ্বারা গঠিত যার একেবারে ভেতরেরটি হল মিউকাস লেয়ার, মাঝেরটি অ্যাকুয়াস লেয়ার আর উপরেরটি তৈলাক্ত লিপিড লেয়ার। এই লেয়ারগুলো চোখে ভিটামিন আর পুষ্টি সরবরাহ করে আর চোখকে আর্দ্র রাখে, বাইরের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। বেসাল টিয়ার্স সারাদিন নিজ কাজ করে চললেও আপনি তা টের পান না। দ্বিতীয়টি হলো “রিফ্লেক্স টিয়ার্স”, চোখে কোনো প্রকার আঘাত লাগলে বা ক্ষতিকর, বিরক্তিকর কোনো গ্যাস বা বস্তুর সংস্পর্শে আসলে এ ধরনের পানি নিঃসরিত হয়। বেসেল টিয়ার্সের মতো এই রিফ্লেক্স টিয়ার্স বা প্রতিরোধী অশ্রুও তিন লেয়ার বিশিষ্ট, কিন্তু এদের মধ্যে বেশ পার্থক্য আছে। এই অশ্রুতে বেশি পরিমাণে এন্টিবডি থাকে, যাতে কোনো জীবাণু চোখের ক্ষতি করতে না পারে। আর চোখের সংস্পর্শে আসা সেসব বস্তুকে সরিয়ে দিতে এতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, প্রায় ৯৮%। তৃতীয় টি হলো “ইমোশনাল টিয়ার্স”, এর আরেক নাম সাইকিক টিয়ারস, যা চাইলেই ইচ্ছাকৃতভাবে বের করা যায় না, কারণ এর সাথে আবেগ জড়িয়ে থাকে। অতিরিক্ত আনন্দ বা কষ্ট কোনোটাই চেপে রাখা আপনার জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। তাই কান্নার মাধ্যমে সেই সুখের বা দুঃখের আবেগকে প্রশমিত করাই হলো ইমোশনাল টিয়ার্সের কাজ। আবেগের সাথে সম্পর্কিত মানব মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল হাইপোথ্যালামাস এবং বেসাল গ্যাংলিয়া। এগুলো ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ডের সাথে যুক্ত থাকায় আবেগ প্রশমিত করার জন্য মস্তিষ্ক থেকে সংকেত পাঠায়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন কেন এমনটা ঘটে।

অনেক তো হলো বিজ্ঞানের কচকচ, এবার আসুন বিজ্ঞানের সাথে একটু আবেগ মিশিয়ে দেখা যাক ব্যাপার টা কি দাঁড়ায়। মানুষ কেন কাঁদে , এই বিষয়ের সঠিক ব্যাখ্যা স্বয়ং বিজ্ঞান ও এখনো আমাদের দিতে পারেনি। তবে শতশত পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোকপাত করতে সক্ষম হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মানুষ কাঁদে সহানুভূতি পাবার আশায়, এবং অবশ্যই সেটা খুবই ইতিবাচক সহানুভূতি। কান্না মানুষের খুবই ব্যক্তিগত আবেগগুলোর মধ্যে একটি। অনেক মানুষ ই দারুণ মানসিক চাপ, রাগ-দুঃখ এমনকি শোক প্রকাশের জন্যেও কাঁদতে পারেনা; এতে করে ভুগতে হয় চরম মানসিক যন্ত্রণায়, মনের মধ্যে বাড়তে থাকে প্রতিশোধস্পৃহা। অপরদিকেই কিছু মানুষ আছে যারা আবেগের সাথে খেই হারিয়ে ফেলে প্রায়ই কেঁদে ফেলে, কাছের কোনো মানুষের সামনে কাঁদতে স্বস্তি বোধ করে, ছোট বড় দুঃখ কষ্ট, মানসিক চাপ , কিংবা খারাপ লাগার বহিঃপ্রকাশ কেঁদে জানিয়ে দেয়। এই ধরণের মানুষদের ব্যক্তিত্ব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৯০% সময়েই এরা খুব নরম মনের হয়ে থাকে, সাধারণত ভীতু মনে করা হলেও বাস্তবে এরাই অদ্ভুত সাহসীকতার পরিচয় দেয়, এমনকি আপনার সবচেয়ে দুঃসময়ে যখন সবাইকে স্বার্থপর মনে হবে, ঠিক তখন আপনার পাশে সাহায্যের জন্য এই ধরণের একজন মানুষকেই আপনি পাবেন।

যে কান্না করে, নিশ্চই সে দূর্বল; কিছু হলেই কান্না করে, ছিঁচকাঁদুনে কোথাকার; এত অল্পতে কান্না করার কি আছে? ভীতুর ডিম একটা!, ছেলে মানুষের কাঁদতে হয়না; মেয়ে মানুষ মানেই সারাদিন ভ্যানভ্যান করে কাঁদবে, এত কষ্ট পাও কেন? এত মন খারাপ হয় কেন? ……… এই উক্তি গুলো করার আগে আসুন আজকে থেকে একটু চিন্তা ভাবনা করে নেই। আপনাকে কেউ যদি তার মানসিক আবেগের কথা জানায়, তার মানে সে আপনার সাথে আবেগের প্রকাশ করতে আরাম বোধ করে, আপনাকে ভরসা করে, আপনার উপর নির্ভর করে!!!

…এবং আপনি জানেন কি?

-এখনো পৃথিবীতে ‘সহানুভূতি’ নামক মানসিক সাহায্য টা বিনামূল্যেই দেয়া যায়, শুধু একটু খানি ইচ্ছার অভাব, অভাব আছে জানার!!!!!

*লেখকের নামঃ মেহের আফজান মেহনাজ

*পড়াশোনাঃBangladesh University of Business & Technology.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top