Musical Instrument By Ifaz Ahmed

হারমোনিয়াম এর যাবতীয়
হারমোনিয়াম একটি বহুল ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় একটি বাদ্যযন্ত্র।এটি পাশ্চাত্যে উদ্ভব হলেও কালক্রমে এটি উপমহাদেশের যন্ত্রতালিকায় বিশেষ স্থান করে নেয়। উপমহাদেশের সঙ্গীত শিল্পীদের কাছে এই হারমোনিয়ামের বিশেষ কদর রয়েছে।বড় বড় ওস্তাদরা তাদের সঙ্গীত সাধনায় এর ব্যবহার করে থাকেন। বর্তমানে প্রায় সঙ্গীতচর্চার অন্যতম একটি সহযোগী বস্তু হচ্ছে হারমোনিয়াম।এই হারমোনিয়াম সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন প্যারিসের আলেকজান্ডার ডোরিয়ান ১৮৪২ সালে।এই হারমোনিয়াম ‘কেবিনেট অর্গান’ নামেও পরিচিত।
 
ভারতবর্ষে প্রথম হারমোনিয়াম ব্যবহৃত হয় কলকাতায়। উনিশ শতকের ষাটের দশকে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর জোড়াসাঁকোতে স্থাপিত সখের থিয়েটারে প্রথম হারমোনিয়াম বাজান। বাঙালিদের মধ্যে প্রথমে কৌতূহল ও পরে আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় হারমোনিয়াম শিক্ষা ও তার ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য উপযুক্ত গ্র‌‌ন্থও রচিত হয়।শৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুরের হারমোনিয়াম সূত্র(১৮৭৪) ও কৃষ্ণধন বন্দোপাধ্যায়ের হারমোনিয়াম শিক্ষা(১৮৯৯) এ প্রথম ও প্রধান দুটি গ্রন্থ।গ্রন্থ দুটিতে হারমোনিয়াম বাদন সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আছে।
 
হারমোনিয়াম দেখতে একটি বাক্সের মতো।বেলোর সাহায্যে ভেতরে বায়ু চালিয়ে যন্ত্রটি বাজাতে হয়। এতে একটি রিডবোর্ড থাকে এবং ধাতব রিডগুলি বোর্ডে সপ্তকের অন্তর্গত স্বরস্থান অনুযায়ী ক্রমোচ্চ পদ্ধতিতে সাজানো থাকে।বেলোর সাহায্যে চালিত বায়ু ভেতরে গিয়ে রিডে আঘাত করে এবং তা থেকে ধ্বনি সৃষ্টি হয়। রিডগুলির উপরে থাকে সাদা ও কালো রঙের পর্দা।সাদা পর্দাগুলি সাধারণত শুদ্ধ স্বর ও কালো পর্দাগুলি সাধারণত কোমল স্বর বোঝায়।তবে স্কেল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য নয়।
 
হারমোনিয়ামের চাবিগুলো একটি নির্দিষ্ট স্কেলে বাঁধা থাকায় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় নতুন করে সুর বাঁধতে হয় না। এতে হারমোনিয়ামে কন্ঠশীলন সহজ হয় এবং সম্ভবত এ কারণেই হারমোনিয়াম এদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে দেশের কন্ঠসঙ্গীতে হারমোনিয়াম একটি অপরিহার্য ও বহুল ব্যবহৃত যন্ত্র। এদেশে বিভিন্ন ধরনের হারমোনিয়াম ব্যবহৃত হয়-কপলার হারমোনিয়াম,বক্স হারমোনিয়াম,স্কেল চেঞ্জার হারমোনিয়াম,সিঙ্গেল বেলো হারমোনিয়াম,ডাবল বেলো হারমোনিয়াম,সাতপাট বা ইংলিশ বেলো হারমোনিয়াম। হারমোনিয়াম প্রথমে Diatonic scale এ তৈরি করে পাশ্চাত্যে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু এই যন্ত্রে চাবিগুলো পরিবর্তনের কোনো সুযোগ ছিল না বলে নির্দিষ্ট চাবিতে সুর মেলাতে অনেক অসুবিধা হতো। এতে শিল্পীর পক্ষে ভিন্ন পর্দায় সঙ্গীত পরিবেশন করা সম্ভব হতো না। পরে এই অসুবিধা দূর করার জন্য ডায়াটোনিক স্কেল পরিবর্তন করে যন্ত্রটিকে সমান স্বরান্তর(equally tempered scale)-এ পরিবর্তন করা হয়। ফলে যেকোনো চাবিকে ‘সা’ করে সঙ্গীত পরিবেশন করা সহজ হয়ে যায়।
 
আমরা বুঝতেই পারছি বাদ্যযন্ত্র হিসেবে হারমোনিয়ামের গুরুত্ব কতটুকু। আমি নিজে একজন সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে সঙ্গীত চর্চায় হারমোনিয়ামকে প্রাধান্য দেই। কন্ঠ সাধনায় হারমোনিয়াম অনেক কার্যকর একটি যন্ত্র।
 
 
তথ্য সূত্র: বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া
 
Ifaz Ahmed
Cambrian College
 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top