Leadership by Avijit Roy

বর্তমান পৃথিবীতে ‘নেতৃত্ব’ খুবই কমন একটি শব্দ। ছোটবেলা থেকে নেতৃত্ব শব্দটি ঠিক না শুনলেও, ‘লিডার’ বা ‘নেতা’ এই শব্দগুলো শোনেনি, এমন মানুষ খুজে পাওয়া দুষ্কর। আমরা সবাই শুনে থাকি যে, নেতৃত্ব মানে নেতা হওয়া, সবাইকে পরিচালিত করা, নেতৃত্ব একটি পদ, যা পেলে মানুষ একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রধান হতে পারে। এই আইডিওলজিগুলো সত্য হলেও ব্যাক্তিগতভাবে আমি এটি নেতৃত্বের সঙ্গায়ন হিসেবে মনে করি না। নেতৃত্ব কোন টাইটেল বা পদ নয়, নেতৃত্ব হল একজন মানুষের অন্যদের প্রভাবিত বা অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা…
আমরা প্রত্যেকেই কোন না কোন জায়গায় নেতৃত্বের ভুমিকা পালন করি। অনেকে হয়ত করেননি, কিন্তু অবশ্যই দেখে থাকবেন। ঘরে এবং বাইরে, নেতৃত্বের এক্সিটেন্স সব জায়গায়। ঘরের নেতৃত্বের সাথে আমরা সবাই পরিচিত, বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রী যিনি থাকেন, ক্ষমতা বা নেতৃত্ব তার হাতেই। তবে নেতৃত্বের জন্য কিছু বেসিক আইডিয়া স্মরণে রাখা আবশ্যক।
প্রথমেই, যে বিষয়ের বা কাজের উপর একজন ব্যাক্তির লিডারশীপ বা নেতৃত্বের কাজ থাকবে, সেই নির্দিষ্ট বিষয় বা কাজ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা থাকা জরুরী। যদি একটি ছেলেকে বা মেয়েকে বিতর্ক/ডিবেট ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বানাতে হয়, তাহলে আগে দেখতে হবে, সেই ছেলেটির বিতর্ক, ক্লাবিং, অরগানাইজিং এই বিষয়গুলোতে অভিজ্ঞ কিংবা দক্ষ কিনা। দক্ষতা কোন বিষয়ে কাজ করে অর্জিত হয়, আর অভিজ্ঞতা সেই বিষয়ে কাজ করে এবং কাছে থেকে দেখে অর্জিত হয়। প্রেসিডেন্ট এর ঐ ক্লাবের মেম্বারদের সার্ভ করা এবং বাইরে নিজের ক্লাবের ইমেজ পজিটিভ রাখার জন্য উপরোক্ত গুণগুলো সেই ছেলে/মেয়েটির মধ্যে থাকা আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত, পাব্লিক রিলেশনস মেনটেইন করা, বা ম্যাচুরিটি থাকা। ম্যাচুরিটি শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। প্রায়শই আমরা মানুষকে ম্যাচিউর নাকি ইম্ম্যাচিউর, এই ক্যাটাগরিতে জাজ করি। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইম্ম্যাচিউর মানুষের পাব্লিক রিলেশন মেনটেইন করার ক্ষমতা কম। বরং তার ফরমাল ওয়েতে কাজ করা, কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে ইনফরমাল ওয়েতে কাজ করার দক্ষতা খুবই কম থাকে। আবার মানুষ কি বলবে, বা কোন কোন কিছুর কেমন ক্রিটিসিজম করবে, তা মনযোগ দিয়ে, ধৈর্য ধরে শোনার এবং তা শুনে সুন্দর, ইতিবাচক ভাবে একটি রিপ্লাই ছুড়ে দেয়ার গুন থাকতে হবে। এইসকল ক্ষেত্রে ধৈর্য নামক গুনটি থাকা অতীব জরুরী। আর নেতৃত্ব বিষয়ক কাজ করা এবং পাব্লিক রিলেশন মেনটেইন এই কাজগুলোর জন্য ধৈর্য নামক গুণটি থাকা আবশ্যক। এই ধৈর্য নামক গুণটি তাকে সকল বিষয় সুন্দরভাবে সমাধান করতে সাহায্য করবে। আর এই বিষয়গুলোই তাকে মানুষের পছন্দের একজন হতে এবং জনসমর্থন আদায়ে সাহায্য করবে।
এবারে যে বিষয়টি নিয়ে বলব, সেটা হল একজন লিডার এর নিজস্ব আইডিওলজি বা তার নিজের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে। একজন লিডার আর একজন বস, এই ২টি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। ২ জনের কাজ হয়ত একই ধরণের, কিন্তু ২টি শব্দের ডেফিনেশন বা ক্যারেক্টারাইজেশন ভিন্ন হওয়ায় নিজেকে মানুষের সামনে প্রিচ করার ওয়েটাও ভিন্ন। আপনি তখনই একজন লিডার হবেন যখন আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে ‘আমি’ শব্দটি ব্যাবহার না করে ‘আমরা’ শব্দটি ব্যাবহার করবেন। আর আপনি যখন ‘আমরা’ শব্দটি ব্যাবহার করবেন তখন এই ‘আমরা’ শব্দের অন্তর্ভুক্ত স্টেক হোল্ডার সম্প্রদায় আপনাকে আপন মনে করা শুরু করবে, আর তখন আপনিও আপনার কাজের মধ্যে ইউনিটি ফিল করবেন এবং আপনিও তাঁদের আপন ভাবা শুরু করবেন। এর ফলে আপনাদের মধ্যে যেই বন্ডিং টা ক্রিয়েট হবে, টা আপনাকে সকলের সামনে একজন আদর্শ লিডার হিসেবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করবে আর সেটিই হবে, আপনার জন্যে, একজন লিডার হিসেবে আপনার সার্থকতা!
Avijit Roy (Ajoy)
Major General Mahmudul Hasan College, Tangail.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top