Self Motivation By Shihab Shahriar Khan

ধরুন একটি বিল্ডিংয়ের কোন পিলার নেই অথবা পিলার থাকলেও সেটি শক্তিশালী নয়। এমন বিল্ডিং কি তৈরি করা সম্ভব?

অসম্ভব! পিলার ছাড়া বিল্ডিং তৈরি সম্ভব না। বিল্ডিং তৈরি হলেও সেটা স্থায়ী হবে না।

আমরা সবাই জানি, Failure is the pillar of success. ব্যর্থতা ছাড়া সাফল্যের এই পিলার তৈরি করা সত্যিই সম্ভব না। কখনই ব্যর্থ হয়নি অথচ প্রচন্ড সফল এমন মানুষ খুজে খাওয়া দুষ্কর। যেসব মানুষ বলে আমার জীবনে কোন ব্যর্থতা নেই তারা আসলে কোন কাজই করে না / করছে না।

মজার ব্যপার হচ্ছে আমরা সবাই বেহেশতে যেতে চাই কিন্তু মৃত্যুবরণ করতে চাই না। মৃত্যু অবশ্যই কষ্টের কিন্তু বেহেশত তো অসীম আনন্দের। বড় কিছু পাওয়ার জন্য ছোট ত্যাগ তো স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু আমরা তা করতে চাই না।

আমরা সবাই অনেক বিশাল বিশাল সফলতা চাই কিন্তু ব্যর্থতার ভয়ে কাজটা শুরু করা হয়ে ওঠে না। কাজ শুরু না করার কারণে ব্যর্থতা বা সফলতার প্রশ্নই আসে না। আমাদের জীবনে কোন বড় ব্যর্থতা নেই তাই সফলতার পিলার এখনো তৈরি হয় নি। সফলতার পিলার ছাড়া তো আবার সফলতা সম্ভব নয়। সঙ্গত কারণেই ব্যর্থতাহীন জীবনে সফলতা নেই। সফলতা কি সত্যিই আমাদের দরকার? যদি সফলতার সত্যিকার প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে বলবো একজন ব্যর্থতার গল্পে ভরপুর মানুষ হওয়ার চেষ্টা করুন। যখন আপনার জীবনে অনেক বড় বড় অসফলতা থাকবে, তার মানে হচ্ছে- সফলতা আপনার খুব কাছাকাছি আর ধরা দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। প্রশ্ন হল, আপনার সাফল্যের পিলার তৈরি হবে কবে?

এখন অনেকেই প্রশ্ন করবেন- ব্যর্থতা কিভাবে সফলতার পিলার তৈরি করবে? সহজ উত্তর- ব্যর্থতা আপনাকে কিছু পাঠ শিক্ষা দিবে যা আপনি আগে কোনদিন পড়েন নি, শিখেন নি বা জানতেন না। ঐ পাঠগুলির অভাবেই হয়ত আপনি অসফল হচ্ছিলেন। এখন তো সেগুলি আপনি জানেন। তাই আপনি সফল হবেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম শুনে নি এমন ছাত্র কি বাংলাদেশে খুজে পাওয়া যাবে? যাবে বলে আমার তো মনে হয় না। এই মানুষটির গল্প আপনাদেরকে একটু শোনাতে চাই।

তিনি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ ভারতের গুজরাটে এক নিম্নবর্গের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে, ছোটবেলায় তিনি তার পিতাকে চা বিক্রি করতে সহায়তা করতেন এবং কৈশোরে বাস স্ট্যান্ডের পাশে দাড়িয়ে ভাইয়ের সাথে চা বিক্রি করতেন। চা বিক্রি করা ছেলেটা আজ ভারতের মত শক্তিধর দেশের প্রধানমন্ত্রী। বুঝতে পারছেন?

আতিউর রহমানের গল্প নিশ্চয়ই জানেন৷ তারপরেও আবার বলছি তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছিলেন৷ কিভাবে হন? জামালপুরের হতদরিদ্র ভূমিহীন এক কৃষকের ঘরে তার জন্ম হয়। তার গ্রামে পড়াশুনা জানা একমাত্র মানুষ ছিলেন মফিজ উদ্দিন চাচা। পাচ ভাই, তিন বোনের পরিবারে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটত। তাদের পরিবারে তার দাদার কোন সমর্থন ছিল না যদিও দাদার আর্থিক অবস্থা মোটামুটি ভাল ছিল। তারা ছনের ঘরে থাকত। তার মা নানার বাড়ি থেকে যে সম্পত্তি পেয়েছিল তাতে তিন বিঘা জমি কেনা হয়। তার ভাষ্যমতে, চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত ঐ জমিতে বাবা যা ফসল ফলাতেন তাতে ৫/৬ মাসের খাবার জুটতো৷ দারিদ্র্যতা কি জিনিস তিনি তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছেন- খাবার নেই, পরণের কাপড় নেই, কি এক অবস্থা!

এরকম একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজের পরিশ্রম, মেধা আর ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছিলেন।

একটু চেষ্টা করলেই এরকম হাজারো হার না মানার গল্প আমাদের চারপাশে খুজে পাবো। আমরা কি এদের কাছ থেকে শিখতে পারি না?

আমরা তো প্রায়ই অজুহাত দিয়ে বসে থাকি- আর্থিক অবস্থা খারাপ, স্কুল/কলেজ/ভার্সিটি খারাপ, ভাল পরিবেশ নেই ইত্যাদি। কেনো?

আমরা কি পারি না তাদের মত ইচ্ছাশক্তি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে? নিজের পরিবেশ নিজে তৈরি করে নিতে?

আপনি যদি অভিযোগ করতে থাকেন তাহলে সারাজীবনেও আপনার জীবনে পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু আপনি যদি প্রতিবন্ধকতা জয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যান তাহলে আপনার জীবন যাদুর মত বদলে যাবে।

ভাল পরিবেশ ছাড়া সত্যিই ভাল কিছু হয় না। আমি/আপনি জন্মগতভাবে ভাল পরিবেশ নাও পেতে পারি। তাই বলে কি আমরা ভাল পরিবেশ তৈরি করতে পারব না?

অবশ্যই পারবো। ধৈর্য, পরিশ্রম আর প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি থাকলে অবশ্যই পারব। নিজের পরিবেশ নিজে তৈরি করে নিন।

শিহাব শাহরিয়ার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ৪র্থ বর্ষ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top