Writing Skills By Sajid Rahman

*ছোটগল্প-শেষ হয়েও হয়না শেষ*

বাংলা সাহিত্যে ছোট গল্প এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।ছোটগল্প কথাসাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা যা সাধারণত আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায় অর্থ্যাৎ, “অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ” যা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় সম্প্রসারণ করেছেন।

*কীভাবে লিখব ছোট গল্প?*

-ছোট গল্প লিখতে হলে প্রথমে গল্পের চরিত্র নির্ধারণ করতে হবে এবং চরিত্রগুলোকে যথাসম্ভব সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।
– সুন্দর এবং সৃজনশীল কিন্তু সরল একটি শিরোনাম দেওয়া প্রয়োজন যাতে পাঠক প্রথম পড়াতেই আকৃষ্ট হয় কারণ গল্পের একটি শিরোনাম গল্পটির সম্পদ।
-গল্পের প্লটকে সুন্দর করে সাজানো যেন পাঠকের আকর্ষণ গল্প পড়ার শেষ পর্যন্ত থেকে যায়।
-গল্পের চরিত্র নির্মাণ এবং সমাবেশ ছাড়াও নিজের কল্পনাশক্তি, আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-ব্যর্থতা, পরিবেশ ও আমেজ নির্মাণ করে গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।গল্পতে থাকতে পারে সাস্পেন্স,থাকতে পারে ড্রামা যাতে করে পাঠক চমৎকৃত হন ও গল্পের ভেতরে অজানা-অনিশ্চিত কী আছে তা জানার জন্য আগ্রহী হন।
-গল্পটা যেন একটা মৌলিক মেসেজ বহন করে সেটা সামাজিক প্রেক্ষাপটেও হতে পারে কিংবা কোন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটেও হতে পারে।
– গল্পের শব্দসংখ্যা সর্বোচ্চ ৪৫০০ রাখাটাই শ্রেয় মতান্তরে কেউ কেউ ৬০০০ রাখার পরামর্শ দেন।
-ছোটগল্প শেষ হয়েও শেষ হয় না। পাঠকের মনে একটি অশেষের জিজ্ঞাসা বা অতৃপ্তি রেখে দেয় আর প্রকৃতপক্ষে এখানেই ছোটগল্পের সার্থকতা। কাহিনীর সূত্রপাত, ঘটনা ও চরিত্রগুলোর মধ্যে বিভিন্ন একশন,সেসবের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সামঞ্জস্য দ্বারা ছোটগল্পকে একটি পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া যা সেই গল্পটার বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত।

সাহিত্যের এই ধারাটি অনেক সম্ভাবনাময় এবং পাঠকও ব্যাপক। কোনো ফর্মুলায় ফেলে হয়তো ছোটগল্পের জ্যামিতি খোঁজা যায় না তবুও একটি কাঠামোকে লেখকগণ অনুসরণ করে চলেছেন। নিজেদের দক্ষতা,পছন্দ,সৃজনশীলতা,কল্পনাশক্তি উপস্থাপন এর মাধ্যমে লেখকগণ অগণিত পাঠকদের তাদের লেখা উপহার দিয়ে চলেছেন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া(আংশিক)

নামঃসাজিদ রহমান
সরকারি বিজ্ঞান কলেজ,তেজগাঁও,ঢাকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top