𝗟𝗲𝗮𝗱𝗲𝗿𝘀𝗵𝗶𝗽 By Jahid Hasan Joni

🔘মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির একটি হচ্ছে নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা। মনের গভীরে আমরা সবাই কম-বেশি নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা লালন করি। সামনে থেকে অবদান রাখতে চাই পরিবার, কর্মক্ষেত্র, সমাজ কিংবা দেশের জন্য। হয়ে উঠতে চাই অনুকরণীয়, অনুসরণীয়।
অসাধারণ এই গুণাবলি নিয়ে আজকের লেখাটি!

➤একটি জনগোষ্ঠী বা একটি প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেয়ার কার্যাবলীকে বা এটা করতে পারার ক্ষমতাকে নেতৃত্ব বলা হয়।
যদি নেতা হতে চান, তা হলে কিছু গুণ আপনার থাকা দরকার। দেখে নিন সেই গুণগুলি কী কী:-

•আত্ববিশ্বাসঃ- নেতারা অন্যদের কাছ থেকে উৎসাহ বা প্রেরণা পেয়ে থাকেন। নেতার নিজস্ব বিশ্বাসই নেতাকে উদ্যোগী করে তোলে।

•দায়বদ্ধতাঃ- দরকারি যা কিছু করা উচিত তা না করে নেতা যদি দায়সারা হন, তাহলে তাঁর কাজটি যথাযথ হবে না। যদি আপনি কাজের প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থাকেন আপনি – বাকিটা হয়ে যাবেন।

•স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গিঃ-নেতার স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি। এভাবে তিনি অর্জন করেন শ্রদ্ধাও।

•কাজের প্রতি ভালোবাসাঃ-আপনাকে সবসময়েই নিজের কাজকে ভালোবাসতে হবে। সত্যিকারের সাফল্য আসে কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকে। এটা দেখার বিষয় নয় যে, আপনি আপনার কাজ থেকে কী পেলেন। নেতা দৃষ্টান্ত গড়েন নিজের জীবনচর্যা অনুসারে।

•সৃজনশীলতাঃ- শুধুমাত্র সাফল্য নয়, অস্তিত্ব বজায় রাথার পক্ষেও জরুরি। সৃজনশীলতাই প্রকৃতপক্ষে নেতা। চিন্তা, সংগঠন কিংবা প্রযুক্তি – যে কোনওক্ষেত্রেই সৃজনশীলতা আমাদের নেতৃত্ব প্রদান করে থাকে।

•কৌশলি মনোভাবঃ-দায়বদ্ধতা প্রমাণিত হয় ধৈর্য্যের পরীক্ষায়। পরিণত নেতা উপলব্ধি করতে পারেন চলবার পথে কখন কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

•লক্ষ ঠিক রাখাঃ- নেতারা সবসময়েই লক্ষ্যের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন। নেতাদের মন খোলা রাখা ও নমনীয় হওয়াটাই উচিত। আপনার দায়বদ্ধতা এমন হওয়া উচিত যাতে আপনি উন্নতি করতে পারেন ও বজায় রাখতে পারেন সম্পর্কগুলি।

•সময়ের কাজ সময় করাঃ-যা করণীয় তা দ্রুত করুন। পিছন ফিরে তাকাবেন না। মনে রাখবেন অনেক সময় ভুল করেও আখেরে আমরা পরবর্তীকালে লাভবান হই।

•নিজের প্রতি দায়িত্বশীল হনঃ-অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো খুব সোজা। অর্থনীতিবিদ ল্যারি রবিনসন জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়াই শেষ কথা নয়। বরং দায়িত্ব পালন করার আগে মনে রাখতে হবে যাতে পরবর্তী ধাপগুলিও ঠিকঠাক থাকে। আপনার অফুরান প্রাণ শক্তি ভীষণ জরুরি। যা আপনাকে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।

➤নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনে করণীয়-

শুধু “ইচ্ছাশক্তি” কাউকে আদর্শ নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে পারেনা।এর পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতন চিন্তাধারা, নিয়মিত অনুশীলন এবং সাধনা।বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজিনেস রিভিউ-র একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, যদি নিজের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী গড়ে তুলতে চান তবে আপনাকে সবার আগে ‘আত্মসচেতন’ হতে হবে। নির্ধারণ করতে হবে জীবনের লক্ষ্য। ভালো-মন্দ বুঝে নিয়ে লক্ষ্য অর্জনে তৎপর হতে হবে। তাই অন্যের অন্ধ অনুকরণ না করে নিজেকে খুঁজুন। নিজের ব্যক্তিসত্তার বিশেষত্ব বুঝে নিন। চিনে নিন নিজের বিশেষ শক্তির জায়গা। মনে রাখবেন, আদর্শ নেতৃত্বের কোনো একক বা সর্বজনীন পথ নেই। বরং এ পথের আছে নানা রকমফের। অতএব, অন্যকে অনুকরণ করতে গিয়ে স্বকীয়তা হারিয়ে ফেললে- তার সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে আপনার সহজাত নেতৃত্বের শক্তি এবং গুণাগুণ। আত্মসচেতন হয়ে খুঁজতে হবে নিজেকে বিকশিত করার উপায়।আত্মসচেতনতা গড়ে তোলার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে নিজের ভুল বা সীমাবদ্ধতার কথা অস্বীকার করা এবং সমালোচনা গ্রহণ করতে না পারা। এতে আত্মোন্নয়নের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যায়। তাই, গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করতে শিখুন- বিশেষ করে আপনার নেতিবাচক সমালোচনাগুলো যা আপনার কাছে অপছন্দনীয়। ভাবুন।নেতৃত্বের গুণাবলী গড়ে তোলার কোনো নির্দিষ্ট বা গড়পড়তা ‘সাজেশন’ যদিও নেই, তবে নিচের পরামর্শগুলো কাজে দিতে পারে:-
•সৎ মতে, সৎ পথে থাকুন।
•সংক্ষেপে, স্পষ্টভাবে কথা বলুন।
•মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করুন।
•উদ্দীপনা বাড়ান, ইতিবাচক থাকুন।
• ধৈর্র্যশীল হন।

𝐌𝐝. 𝐉𝐚𝐡𝐢𝐝 𝐡𝐚𝐬𝐚𝐧 𝐉𝐨𝐧𝐢
𝐔𝐥𝐢𝐩𝐮𝐫 𝐌.𝐒 𝐬𝐜𝐡𝐨𝐨𝐥 𝐚𝐧𝐝 𝐜𝐨𝐥𝐥𝐞𝐠𝐞.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top