Multiple Personality Disorder

“Multiple Personality Disorder” নামটি বা শব্দটি শুনে নাই এমন মানুষ বোধ হয় নেই। প্রায়ই বিভিন্ন সিনেমা, টিভি সিরিজ কিংবা ওয়েব সিরিজে এই রোগের নাম শোনা যায়। একজন মানুষ এর হটাৎ করেই তার আচরণে, কথা বার্তায় পরিবর্তন আসে। ওই ব্যাক্তিটি একাধিক ব্যাক্তিত্ব ধারণ করে।

Multiple Personality Disorder কি?

Multiple Personality Disorder বা বহু সত্তা রোগে একজন মানুষের মধ্যে একাধিক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ পায়। তা হতে পারে কোনো কাল্পনিক মানুষের, কোনো কল্পনার চরিত্রের, এমনকি কারো কারো মাঝে পশুপাখির স্বভাবও দেখা যায়! মানুষটি অনেকগুলো সত্ত্বার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলে, নিজেকে আর আলাদা করতে পারে না। এবং ওই সত্তাটি ব্যক্তিটির নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও থাকে না। ব্যক্তিটি যখন স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে তখন ওনার অন্য সত্তা বা সত্তাগুলোর ব্যাপারে কিছুই জানে না । এখানে একজন ব্যক্তির মাঝে একাধিক ব্যক্তিত্ব দেখা যেতে পারে। ডিসোসিয়েটিভ আইডেন্টিটি ডিজঅর্ডারও বলে।

আসলেই কি এমন কোনো রোগ আছে?

অনেকে মনে করে থাকে মানসিক চিকিৎসকেরা রোগীর মাঝে হ্যালুসিনেশনের সৃষ্টির মাধ্যমে এই রোগ তৈরি করে থাকে। বর্ডার লাইন পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, পিটিএসডি, সাইকোটিক ডিসঅর্ডার, পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার, কনভার্সন ডিজঅর্ডার সহ অন্য বেশ কিছু রোগের সাথে এর মিল থাকার কারণে অনেকে একে সেসব রোগের লক্ষণ ভেবে থাকে।

Multiple Personality Disorder কেন হয়?

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিল্যুশনের চরম মাত্রায় কিছু রোগীদের সাথে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। রোগী নিজেকে অন্য কেউ ভাবতে শুরু করে। কথা বার্তা, চালচলন, আচার আচরণ ইত্যাদি সবকিছুতেই ভিন্নতা আসে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শৈশবের কোনো ভয়ংকর ঘটনা, কোনো সমস্যা, যৌন নির্যাতন, পারিবারিক কলহ ও দন্ধ ইত্যাদির কারণে এই রোগটি দেখা যায়। বিশেষ করে যৌন নির্যাতনের কারণে এই রোগ দেখা দেয়। মূলত অতীতের কোনো ভীতি বা ভয়ঙ্কর স্মৃতি থেকে এসব রোগ দেখা দেয়।শত চেষ্টার পরও যখন সে তার ভয়ঙ্কর স্মৃতি থেকে রক্ষা পায় না, তখনই সে এই পন্থা অবলম্বন করে থাকে।যারা নিজেদের জীবন নিয়ে অনেক বেশি হতাশ, নিজেদের জীবন যাদের পছন্দ না, তারা তাদের প্রাত্যহিক জীবন থেকে মুক্তি লাভের জন্য নিজেদের মধ্যে অন্যান্য ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটিয়ে থাকে।

লক্ষণ:

বিভিন্ন ধরনের পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার আছে। তাই এসব ক্ষেত্রে দেখা দেয় বিভিন্ন রকম উপসর্গ। যেমনঃ-
* মন ভালো না থাকা।
* অযথা অপরাধবোধ জন্মানো।
* কিছুতে আগ্রহ না পাওয়া।
* কোনো কিছুতে আনন্দ না পাওয়া।
* ঘুমে সমস্যা হওয়া।
* ক্লান্তি ও অবসাদে ভোগা।
* চিন্তা করার সামর্থ্য কমে যাওয়া।
* মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়া।
* সবসময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা।
* ক্ষুধা কমে যাওয়া।
* পেটের সমস্যা দেখা দেওয়া।
* শরীর দুর্বল লাগা।
* শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
* আত্মহত্যার প্রবণতা।
* রোগীর চিন্তাশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া।
* রোগী সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারে না এবং সমাজ থেকে আলাদা হয়ে যায়।
* মানসিক জীবন খণ্ডিত হয়।
* অন্যদের প্রতি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অবিশ্বাস জন্মায়।
* মানসিকভাবে অস্থিতিশীল হয়।
* অন্যদের গতিবিধির ওপর সন্দেহমূলক নজর রাখে।
* এরা ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখতে অনীহা বোধ করে। সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকেও নিজেকে দূরে রাখে।
* অন্যকে খুব রূঢ়ভাবে বিদ্রুপ করে। অন্যের কাছ থেকে কোনো কথা না শুনেই তাদের নিজের মতামত চাপিয়ে দেয়।
* প্রায়ই নিজের মধ্যে শূন্যতা অনুভব করে। কোনো সংকটময় সময়কে তারা ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারে না। অনেক সময় নিজের ওপর অত্যাচার করে। এটি পরে তার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
* এরা অন্যদের কাছ থেকে বেশি মনোযোগ পেতে চায়। এজন্য অভিনয়েরও আশ্রয় নিতে পারে। সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তিরষ্কার ও প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে পারে না।
* তাদের মনে হয়, তারা অন্যদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা অন্যের কাছ থেকে বাহবা পেতে চায়, কিন্তু তারা নিজেরা কাউকে বাহবা দিতে নারাজ।
* হীনম্মন্যতায় ভোগে। তারা মনে করে, অন্যকে আকৃষ্ট করার মতো কিছুই তার নেই। তাই অন্যদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। নতুন বন্ধু তৈরিতেও এরা আগ্রহী নয়।
* অন্যের ওপর দারুণভাবে নির্ভরশীল। এরা একা থাকতে চায় না। যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে বারবার সে বিষয় নিয়ে চিন্তা করে বা ভাবে।

পরিণতি

দীর্ঘস্থায়ী এই রোগের পরিণতি অনেক ভয়াবহ হতে পারে।এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের ক্ষতিসাধন করে।এমনকি আত্মহননের পথ পর্যন্ত বেছে নিতে পারে। নিজের অস্তিত্ব নিয়ে দ্বিধার মধ্যে থাকতে হয়।যার দরুন আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে অন্যান্য সাইকোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার ও দেখা দিতে পারে।

প্রতিকার

এই রোগ কখনোই সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব নয়। আজীবন চিকিৎসাধীন থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়মিত কাউন্সিলিং করে এর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে এর পাশাপাশি এর পার্শবর্তী অন্যান্য রোগেরও নিয়মিত কাউন্সিলিং করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top