পৃথিবীর কিছু অদ্ভুত সংস্কৃতি

বর্তমান শতাব্দী বিজ্ঞানের শতাব্দী যেখানে যুক্তি ছাড়া কোন কথারই গুরুত্ব নেই। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসেও পৃথিবীর কিছু কিছু জায়গায় কুসংস্কারাচ্ছন্ন কিছু সংস্কৃতির চিহ্ন রয়েই গেছে। এই সংস্কৃতিগুলো এতটাই অদ্ভুত এবং ভয়াবহ যা আমাদেরকে রীতিমতো চমকে দিতে পারে।আর নিচে এরকমই কিছু সংস্কৃতির কথা তুলে ধরা হবে।

এল সালত দেল কোলাচোঃবাচ্চাদের নিয়ে যে কোন কথাই আমরা সহজেই ঘাবড়ে যাই আর যেই রীতি বাচ্চাদের উপর লাফানো দিয়েই শুরু হয় সেটি তো আমাদের চমকে দিবেই।
স্পেনীয় গ্রাম ক্যাস্ট্রিলো ডি মার্সিয়া চলে এই অদ্ভুত উৎসব। এই উৎসবে এক বছর আগে জন্ম নেয়া বাচ্চাদের রাস্তায় শুইয়ে রাখা হয়। তারপর লাল এবং হলুদ রঙের মাস্ক পরিহিত ‘শয়তান’ কোলাচো বাচ্চাদের উপর লাফ দিয়ে চলে যায়।
এই উৎসবে, লাল এবং হলুদ রঙের মাস্ক পরিহিত ‘শয়তানেরা’ দৌড়ায় আর আজে বাজে বকাঝকা করতে থাকে গ্রামের অধিবাসীদের। তারপরে আসে কালো পোশাক পরিহিত এটাবালেরো, একজন ধার্মিক লোক, যিনিই তাড়াতে পারেন ‘শয়তান’ । শুরু হয় এল সালত দেল কোলাচো। শয়তানের বিপরীতে শুভ শক্তির লড়াই।
বিশ্বাস করা হয়ে থাকে যে আদম এবং ইভের পাপ এই নবজাতকরা বহন করে। আর লাফ দিয়ে মোচিত হয় সকল পাপ। নিষ্পাপ হয় নবজাতকেরা। এরপর গোলাপজল দিয়ে গোসল করানো হয় বাচ্চাদের।

সাতেরে মাওয়ে ট্রাইব ইনিসিয়েশনঃআমাজনে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একটি বৃহত্তম উপজাতি হলো সাতেরে মাওয়ে।উপজাতির তরুণদের একটি কষ্টকর পরীক্ষা দিতে হয়। যা বিশ্ববাসীর চিন্তার বাইরে! পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পিঁপড়া হিসেবে খ্যাত বুলেট পিঁপড়া দিয়ে ভরা একটি গ্লাভস ১০ মিনিট হাতে পরে থেকে সেই উপজাতির পুরুষদের নিজের পুরুষত্বের প্রমাণ দিতে হয়। জীবনকালে 20 বার এই বিষাক্ত পিপড়ার কামড় সহ্য করতে পারলেই পুরুষরা নিজেদের পুরুষ বলে দাবি করতে পারি।
মাত্র 12 বছর বয়স থেকেই সেই উপজাতির পুরুষরা এই পরীক্ষাটি দিয়ে থাকে এবং পরীক্ষাটি না দিলে তারা কোনোভাবেই দৈহিক মিলনের স্বীকৃতি পায় না। বলা হয়ে থাকে এই বুলেট পিপঁড়ার একেকটি কামড় গুলিবিদ্ধ হওয়ার মত যন্ত্রণা দেয়।

টাইডং সম্প্রদায়ে বিয়েঃইন্দোনেশিয়ার একটি সম্প্রদায়, টাইডং সম্প্রদায়ের মানুষজন বিশ্বাস করে বিয়ের পর নবদম্পতি শৌচাগারে প্রবেশ করলে এটি তাদের জন্য খারাপ হতে পারে।তাই বিয়ের পর তিনদিন তাদের কোনভাবেই শৌচাগারে যেতে দেয়া হয় না।বিয়ের তিনদিন পর,অর্থাৎ চতুর্থ দিনে সব আত্মীয়দের উপস্থিতিতে তাদের গোসল করিয়ে তারপর ই শৌচাগারে যেতে দেয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top