Statue of Liberty

“মশাল হাতে দাড়ানো বিদেশে একটা মেয়ের স্ট্যাচু” এটা মনে হয় খুব কম মানুষই আছে যে একবারও দেখেনি। টিভিতে হোক বা বইয়ে হোক কিংবা অনলাইনে কোনো না কোনোভাবে একবার হলেও আমরা ঐ স্ট্যাচু দেখেছি। নাম না জানলেও কিন্তু আমরা দেখেছি। কিন্তু কখনো কি কারো মনে হয়েছে স্ট্যাচুটির এভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ কি?

৯২.৯৯ মিটার উচ্চতার আর ১২ একর আয়তনের ২০৪ মেট্রিক টনের এই স্ট্যাচুটি রোমান স্বাধীনতার দেবী “লিবার্টাস” এর মূর্তি। ১৮৮৬ সালে ফ্রান্স যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তিতে ও বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে এই বিশাল নিওক্লাসিক্যাল ভাস্কর্যটি উপহার দিয়েছিল। এই মূর্তিটির ডান হাতে একটি মশাল ও বাম হাতে একটা “টাবুলা আনসাটা” ধরে রাখা। “টাবুলা আনসাটা” এ JULY IV MDCCLXXVI (রোমান অক্ষরে ৪ জুলাই, ১৭৭৬) লেখা, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার তারিখ। পায়ে রয়েছে ভাঙা শিকল যা তৎকালীন সময়ে দাসপ্রথা রদের প্রতীক। মূর্তিটির মাথায় অলংকারের মত দেখতে সাতটি সূচালো লোহা বের হয়ে আছে, এগুলো আদতে সাতটি মহাসমুদ্রের প্রতি ইঙ্গিত করেই তৈরি করা হয়েছে। পুরো মূর্তির মধ্যদিয়ে একটি সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে যেটা দিয়ে মাটি থেকে একদম ওপরের মশাল পর্যন্ত যাওয়া যায়। এই ভাস্কর্যটির ভিতরের কাঠামোটির নকশা ও তৈরি করেছিলেন ফেড্রিক অগাস্তে বার্থোল্ডি।

১৮৬৫ সালে অ্যাডওয়ার্ড রেনা দে লাবলয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে আমেরিকার স্বাধীনতায় উত্থাপিত যে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ সঠিকভাবে ফরাসী এবং মার্কিন জনগণের একটি যৌথ প্রকল্প হবে। ফ্রাঙ্ক- প্রুয়েশিয়ান যুদ্ধের কারণে ১৮৭৫ পর্যন্ত , যখন লাবলয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে ফরাসিরা এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই স্থানটি সরবরাহ করবে। মূলত তিনি একজন ফরাসি আইন অধ্যাপক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং বার্থোল্ডি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। বার্থোল্ডি তখন মাত্র মাথা ও হাতের কাজ সম্পন্ন করেছে ও টুকরোগুলো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনের জন্য প্রচারিত হয়েছিল।
১৮৮৫ সালে তহবিলের অভাবে মূর্তিটির বেদিটির কাজ হুমকির সম্মুখীন হয়। অতঃপর অনুদান সংগ্রহ করে এর বেদিটির কাজ সম্পন্ন করা হয় ১৮৮৬ সালের এপ্রিলে। ১৮৮৪ সালে ফ্রান্সের মূর্তিটির কাজ সম্পন্ন হয় এবং এটিকে ৩৫০ টুকরোতে বিভক্ত করা হয়। যুদ্ধ জাহাজ “Isere”তে করে ১৮৮৫ সালে এই টুকরোগুলোকে পাঠানো হয় ২১৪টি ক্রেটে।আর যে দ্বীপটিতে স্ট্যাচুটি রাখা আছে তার নাম ছিল “বেডলে আইল্যান্ড”, তবে ১৯৫৬ সালের দিকে এই দ্বীপের নাম পরিবর্তন করে “লিবার্টি আইল্যান্ড” নামে নামকরণ করা হয়।

১৯৮৪ সালের দিকে এই মূর্তিটির মশালটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। পূর্বের সাধারণ লোহার পরিবর্তে সেখানে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে তৈরি একটি মশাল প্রতিস্থাপন করা হয়।বর্তমানে এই স্ট্যাচুর সিঁড়িটি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু এটার চারপাশে বিভিন্ন ওয়েবক্যাম এর জন্য বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনি চাইলে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে এটার বিভিন্ন ভিউ দেখতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top