Sleeping Paralysis

“বোবায় ধরা” শব্দটির সঙ্গে পরিচিত নয় অথবা শুনেনি এমন মানুষ হয়ত নেই। সবাই একবার হলেও শব্দটি শুনে থাকবে।হটাৎ ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষনের জন্য কথা বলতে না পারা বা হাত পা নাড়াতে না পারার ক্ষমতাকে ইংরেজিতে বলে স্লিপিং প্যারালাইসিস।

খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা একে “ডেমন্স অ্যাটাক” বলেন। আফ্রিকানরা বলে ” Witch Riding Your Back” এবং চাইনিজরা বলে mengyan, “ghost pressing on body.” বাংলায় একে “বোবায় ধরা”বলা হয়। অনেক মুসলিম দেশে একে “জিনের আছর” বলেও মনে করা হয়।

এই “বোবায় ধরা” নিয়ে অনেক কুসংস্কারও রয়েছে। প্রায় সব লোকগাঁথাতে ভুত নামক অশরীরী কাল্পনিক চরিত্র রয়েছে। বোবায় ধরলে অনেক মনে করে যে ভূতের প্রভাব রয়েছে। তাই এটাকে “বোবা ভূতে ধরা” বলেও গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে।

তবে ব্যক্তিভেদে এটা ভিন্ন হতে পারে। অনেকে ঘুম থেকে উঠার পর কিছুক্ষনের জন্য কথা বলতে পারে না আবার অনেকে হাত পা নাড়াতে পারে না। এজন্য একে Sleep Paralysis বলে।

বোবায় ধরার কারণসমূহ :

মায়ো ক্লিনিকের গবেষণা অনুযায়ী, ১০-২৫ বছর বয়সীদের ভেতর বেশি দেখা যায় সমস্যাটি।২০১১ সালে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বের ৭.৬ ভাগ মানুষ এ সমস্যায় ভোগেন। বিষণ্ণতা বা উদ্বিগ্নতার রোগীদের শতকরা প্রায় ৩২ ভাগের ভেতরেই বোবায় ধরার সমস্যাটি দেখা যায়। সাধারণভাবে যেসব কারণে বোবা ধরা দেখা যায়, সেগুলো হলো-

• ঘুম কম হওয়া।
• ঘুমের সময় পরিবর্তন।
• উপুড় হয়ে ঘুমানো।
• মাদকাসক্তি।
• বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা এ জাতীয় মানসিক সমস্যা থাকা।
• নার্কোলেপ্সি বা অতি ঘুমকাতরতা, ঘুমের মধ্যে হাত-পা ছোঁড়া বা হাঁটা সহ অন্যান্য নিদ্রাজনিত রোগ থাকা।
• সক্রিয়তা বর্ধক ঔষধ সেবন।

বোবায় ধরার সমস্যা থেকে বেরোতে কী করবেন :

•নিয়মিত পরিমাণমতো (কমপক্ষে ৬-৮) ঘন্টা ঘুমাবেন।
• উপুড় হয়ে ঘুমানো পরিহার করুন।
• একজন চিকিৎসক এর পরামর্শ নিতে পারেন।
•চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট সেবন করতে পারেন ঘুমের জন্য।
• অন্যান্য নিদ্রাজনিত বা মানসিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসা নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top