জীবাণুতত্ত্বের জনক

পৃথিবীতে এই পর্যন্ত অসংখ্য নামকরা বিজ্ঞানী এসেছে যার মধ্যে লুই পাস্তুর (Louis Pasteur:1882-1895 ) একজন। ১৮৮২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফ্রান্সের ডোল শহরে জন্মগ্রহণ  লুই পাস্তুর।

১৮৮৭ সালে এ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর উপর গবেষণা করে পশুর  রক্তে একধরণের জীবাণু খুঁজে পান তিনি। এ সময় তিনি নিরপেক্ষ প্রস্রাবের এক পুষ্টিকর মাধ্যম উদ্ভাবন করেন। জীবাণু চাষের জন্য এই মাধ্যমটি খুবই উপযোগী। এ অবস্থায় জীবাণুকে ২ সপ্তাহ রাখলে জীবাণু নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং এ্যানথ্রাক্স ভ্যাক্সিনে পরিণত হয়। এ্যানথ্রাক্স জীবাণু আবিষ্কারের পর তিনি মুরগির কলেরা হবার কারণ বের করেন। এই  রোগ সৃষ্টির জন্য যে জীবাণু দায়ী তাও তিনি  প্রমান করেন। তিনি কলেরা আক্রান্ত মুরগির ঝুঁটি থেকে রক্ত নিয়ে তা থেকে জীবাণু পৃথক করে গড়ে তোলেন জীবাণু কলোনি। পড়ে সেই জীবাণু পাউরুটির সাথে মিশিয়ে খাইয়ে দেন  কিছু  সুস্থ মুরগিকে। ফলে ২ দিন যেতে না যেতেই সেই সুস্থ মুরগিগুলো কলেরায় আক্রান্ত হয়ে যাই।  তিনি তখন অসুস্থ হওয়া মুরগিকে ৩ দিন বয়সের পুরানো জীবাণু খাইয়ে দেন।  এরপর সুস্থ হয়ে যাই সেই অসুস্থ মুরগিগুলো।

লুই পাস্তুর প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৮৩২ সালে ভর্তি হন প্যারিসের এক স্কুলে। ১৮৪০ সালের সাহিত্য এবং ১৮৪৭ সালে রসায়ন শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করার পর বিজ্ঞানী বালাড্রেব -এর অধীনে কাজ করেন। ১৮৪৮ সালে টারটারিক এসিডকে চারটি শ্রেণীতে পৃথক করে সারা বিশ্বকে চমকে দেন তিনি। ১৮৫৪ সালের লিলে ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং ফ্যাকাল্টি অফ সায়েন্সের ডিন নিযুক্ত হন তিনি। এসময়ই তিনি জীবাণুর অস্তিত্ব সম্পর্কে মতবাদ প্রকাশ করেন।

এজন্যই লুই পাস্তুর কে জীবাণুতত্ত্বের জনক বলা হয়। মহান এই বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৯৫ সালের ২৭শে  সেপ্টেম্বর ৭৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top