শেখা ও শেখানোয় ইউটিউব

আজকাল আমরা কে কে ইন্টারনেট এর সাথে পরিচিত নই? আমার মনে হয়,এর সংখ্যা নেই বললেই চলে। বর্তমানে সমাজে আমরা প্রায় সকলেই ইন্টারনেট এর সাথে সম্পৃক্ত। ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যেমন নেতিবাচক দিক নিয়ে এসেছে তেমনি এনেছে নানারকম ইতিবাচক দিক। যেকোনো বিষয়ের দুটো দিক থাকে। একটা ইতিবাচক দিক একটা নেতিবাচক দিক। আমরা যদি নেতিবাচক দিক থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক দিককে ব্যবহার করি,তাহলে আমাদের সব কাজে উন্নতি হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ইউটিউব’ এর ক্ষেত্রেও তাই। ইউটিউবে প্রায় সকল প্রকার ভিডিও পাওয়া যায়। একাডেমিক লেখাপড়া সংক্রান্ত, এডমিশন লেখাপড়া সংক্রান্ত, ব্লগ, জব প্রিপারেশন সংক্রান্ত লেখাপড়া,স্কিল ডেভলপমেন্ট সম্পর্কিত সকল কিছুই পাওয়া যায়।

আমরা অধিকাংশই ইউটিউব কে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেই। ইউটিউব এ অযথা ভিডিও দেখে,মুভি দেখে আমাদের মূল্যবান সময়গুলো অপচয় করি। এর ফলে দিন শেষে আমরা কোন লাভই পাইনা।শুধু আমাদের সময় অপচয় হয় মাত্র।

বর্তমান শিক্ষায় ইউটিউব এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউব এর ফলে,একজন গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার্থী একজন শহরে শিক্ষার্থীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। ইউটিউব এ দেশবরেণ্য শিক্ষকের আপলোড করা ভিডিও অনেক শিক্ষার্থীর যেমন অর্থ বাঁচায়, তেমনি একজন শিক্ষার্থী একজন দেশবরেণ্য শিক্ষকের ক্লাস ঘরে বসেই করতে পারে। আমাদের দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একটা সাধারণ সমস্যা হচ্ছে অর্থনৈতিক সমস্যা। অর্থনৈতিক সমস্যার ফলে একজন শিক্ষার্থী রাজধানীতে তথা শহরে লেখাপড়া করতে পারে না।আর, আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে শহর কেন্দ্রিক। শহরের একজন শিক্ষার্থী যততা পারদর্শী, একজন গ্রামীণ পর্যায়ের শিক্ষার্থী ঠিক ততটা পারদর্শী নয়। শহরে যতটা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ আছে ।গ্রামে ঠিক ততটা নেই। এর ফলে গ্রামের শিক্ষার্থী সেই শহরের শিক্ষার্থীর মত ততটা পারদর্শী হতে পারে না। এই সমস্যা সমাধানে কাজ করে ইউটিউব। দেশের বিভিন্ন শিক্ষনীয় প্ল্যাটফর্ম যারা প্রতিদিন প্রতিনিয়তই ইউটিউবে শিক্ষনীয় ভিডিও আপলোড করে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতেছে।

এগুলো তো বললাম শুধু লেখাপড়া করার কথা।লেখাপড়া বাদেও আমাদের স্কিলটাকে ডেভলপ করতে ইউটিউব এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্কিল ডেভলপমেন্ট সম্পর্কিত সকল ভিডিও ইউটিউবে পাওয়া যায়। ফটোগ্রাফি স্কিল, ভিডিওগ্রাফি স্কিল, প্রেজেন্টেশন স্কিল,পাবলিক স্পিকিং স্কিল, ইত্যাদি সকল ভিডিও ইউটিউবে খুব সহজেই পাওয়া যায়।লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজের স্কিলটাকে ডেভলপ করতে আমরা ইউটিউব এর সাহায্য নিতে পারি।

তো চলো জেনে নেই, আমরা কিভাবে ইউটিউব এর ইতিবাচক ব্যবহার করতে পারি।

“একাডেমিক লেখাপড়া ইউটিউব”
আমাদের পাঠ্যপুস্তক এর সকল সমস্যার সমাধান এখন ইউটিউবে পাওয়া যায়। ইউটিউবে দেশবরেণ্য শিক্ষকের ক্লাস এর ফলে একজন শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় ঠিক যতটা পারদর্শী হয়ে ওঠে তেমনি একজন শিক্ষার্থীর কমিউনিকেশন স্কিলটাও বৃদ্ধি পায়। ইউটিউবে শেখার একটা মজার বিষয় হচ্ছে, সেখানে বিনোদনের সাথে শেখা যায় এবং যখন ইচ্ছা ঠিক তখনই শিখা যায়। একাডেমিক লেখাপড়া ছাড়াও এডমিশন সংক্রান্ত,জব প্রিপারেশন সংক্রান্ত, সকল কিছুই এই ইউটিউব এই খুব সহজে পাওয়া যায়।

” স্কিল ডেভলপমেন্ট ইউটিউব”
লেখাপড়া ছাড়াও স্কিল ডেভলপমেন্ট এর জন্য আমরা ইউটিউব কে ব্যবহার করতে পারি। পাবলিক স্পিকিং, স্পোকেন ইংলিশ, প্রেজেন্টেশন ইত্যাদির ক্ষেত্রে ইউটিউব ভিডিও দেখে বর্তমান অনেকেই এসব বিষয়ে পারদর্শী হচ্ছে। এসব বাদে স্কিল ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কিত অনেক অনেক ভিডিও অল্প পরিশ্রমে একদম বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আমরা সকলে ইউটিউব কে বিনোদনের জায়গা না বানিয়ে শেখার জায়গা বানিয়ে ফেলতে পারি।

” দৈনন্দিন শেখায় ইউটিউব”
দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক কাজ-কর্ম করি। রান্না থেকে শুরু করে সকল কিছু। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলো শেখার জন্য আমরা ইউটিউবকে ব্যবহার করতে পারি। অল্প পরিশ্রমে একদম বিনামূল্যে শেখার একটা নতুন মাধ্যম হিসেবে ইউটিউব দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ইউটিউব এ ডাক্তাররা বিভিন্ন রোগ সম্বন্ধে ভিডিও ছাড়েন।অসুস্থদের সুস্থ করতে ইউটিউব এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

” সমস্যা সমাধানে ইউটিউব”
আজকাল অনেকেই সমস্যার সমাধান করার জন্য ইউটিউবকেই বেছে নিয়েছে। লেখাপড়ার সমস্যা ছাড়াও, দৈনন্দিন জীবনের সকল সমস্যার সমাধান এখন ইউটিউবে পাওয়া যায়। এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ এখন ইউটিউবে পাওয়া যায়। পাশাপাশি সরকারি সকল সমস্যার সমাধান এখন ইউটিউবে হচ্ছে।

” প্রতিভা প্রকাশে ইউটিউব”
আজকাল অনেকেই ইউটিউব থেকে প্রতিভা প্রকাশ এর মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে ।অনেকে পড়াতে ভালোবাসে, অনেকে গাইতে ভালোবাসে, অনেকে নাচতে ভালোবাসে,অনেকে আবার আবৃত্তি করতে ভালোবাসে। আমাদের এই প্রতিভাগুলো আমরা ইউটিউবে প্রকাশ করতে পারি।ইউটিউব এর মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিভা সারা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে পারি।

মজার বিষয় হচ্ছে, ইউটিউবে ইনকাম করা যায়। ঘরে বসে আমরা আমাদের নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করে যদি ইনকাম করতে পারি। সেটা কেমন হয়। নিশ্চয়ই ভালো। তাই ইউটিউব কে বিনোদনের জায়গা না বানিয়ে নতুন কোন কিছু শেখার, জানার এবং জানানোর মাধ্যম বানাতে পারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top