গ্লসোফোবিয়া

ফোবিয়া শব্দটির সাথে আমরা প্রায় সবাই কম-বেশি পরিচিত। একটু বইয়ের ভাষায় বললে এর অর্থ দাঁড়ায়, “ফোবিয়া হচ্ছে কোনও বিশেষ বস্তু, বিষয় কিংবা কোনও ঘটনা বা অবস্থায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় আতঙ্কিত হওয়া, অস্বস্তিবোধ করা বা অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়া অথবা সেই ব্যপারটাকে অহেতুক এড়িয়ে চলার প্রবণতা।” অনেকের অনেক ধরনের ফোবিয়া থাকে। যাদের পানিতে ফোবিয়া থাকে তাদের হাইড্রোফোবিয়া বলে,পশু-পাখিকে ভয় পাওয়াকে জুফোবিয়া বলে, ইত্যাদি।

আপনি যদি ঘাম ভেঙে যান এবং আপনার হাঁটু কাঁপতে শুরু করে, যখন আপনি বাক্যটি শুনতে পান “আপনার বক্তৃতা দিতে হবে,” আপনার গ্লাসফোবিয়া থাকতে পারে। দর্শকদের আকার প্রায়ই ব্যাপার না। কিছু লোককে তারা একটি ছোট দলের কাছে উপস্থাপনা করতে হবে বা মানুষের পূর্ণ একটি বড় কক্ষে বক্তৃতা দিতে হবে কিনা তা নির্বিশেষে কিছুটা উদ্বেগ অনুভব করে। এই ভয়টি কাটিয়ে উঠার সময় আপনার মূল্যবান, কারণ আপনার কর্মজীবনের কোনও সময়ে এটি করার জন্য আপনাকে আহ্বান করা যেতে পারে।

বহু জরিপ প্রকাশ করেছে যে মানুষ মারা যাওয়ার চেয়ে জনসাধারণের ভাষণের চেয়ে বেশি ভয় পায়। এই ভয়-গ্লাসোফোবিয়া এমনকি একটি প্রযুক্তিগত নাম আছে। মনোবিজ্ঞানীগণ এটি একটি সামাজিক উদ্বেগ ব্যাধি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করে, যদিও অনেকেই জনসাধারণের কথাকে ঘৃণা করার দাবি করে অন্য সামাজিক যোগাযোগের জন্য ভয় পায় না।

Glossophobia কারণ

মনস্তাত্ত্বিক পর্যায় ভীতির বিকাশে প্রভাবিত দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত। এটি একটি জেনেটিক পূর্বাভাস এবং সামাজিক প্রভাব।

আনুগত্য বোঝা যায় যে কোনও আবেগকে তীব্রভাবে অনুভব করার জন্য, জন্মের নির্দিষ্ট কিছু বস্তুর প্রতিক্রিয়া, সমাজের জেনেটিক্যালি ভেরিয়েটেড ভয়। যদি প্রাপ্তির সামাজিক ভয়াবহতা মঞ্চের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জনগণের ভীতি নিন্দা, নির্যাতন, অস্বীকৃতি বা জনগণের উপহাসের ভয়কে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। মেজাজ, চরিত্র বৈশিষ্ট্য, এবং অভিজ্ঞতার তীব্রতা টাইপ এছাড়াও উত্তরাধিকারী হয়। বাবা-মায়েরা এবং সন্তানরা আসলে মানসিক পদে একে অপরকে খুব সাদৃশ্যপূর্ণ: তাদের একই রকম আবেগপ্রবণতা রয়েছে, একই রকম আবেগগত উপলব্ধি রয়েছে, তারা নির্দিষ্ট স্ট্রেসগুলির সমানভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তারা একই রকম এবং তাদের মনোযোগ স্থির করার সময়কাল।

মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে সামাজিক পূর্বশর্তগুলি গ্লাসোফোবিয়ার বিকাশকে সর্বাধিক পরিমাণে প্রভাবিত করে। তাদের মধ্যে রয়েছে:

•অশিক্ষাগত, শৈশব মধ্যে despotic শিক্ষা।

•কঠোর এবং দ্বন্দ্ব, আক্রমণাত্মক আচরণ   একটি সন্তানের সঙ্গে বাবা।

•পাশ থেকে সমালোচনা গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্ব প্রদান।

•স্বৈরাচারের উচ্চ মাত্রা, ফলস্বরূপ, আধিকারিক ব্যক্তিত্বের সম্পূর্ণ আনুগত্য, সবার সন্তুষ্টির ইচ্ছা।

•স্ব-অপছন্দ, নিজের ব্যক্তিত্ব প্রত্যাখ্যান করা, পিতামাতার অতিরিক্ত কঠোর পরিশ্রম এবং সমালোচনার প্রভাবের কারণে স্ব স্ব শ্রদ্ধা।

•ব্যর্থতা, সফলভাবে শৈশব মধ্যে সঞ্চালিত, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যার ফলাফল দ্বারা সমালোচনা করা হয়।

•বাস্তবতার অদৃশ্য দৃষ্টি, একটি নেতিবাচক দিক থেকে ঘটনা ব্যাখ্যা।

কীভাবে গ্লসোফোবিয়া দূর করা যায়??

অন্যান্য বেশীর ভাগ ফোবিয়ার মতো এটিও মন থেকে ঝেড়ে ফেলা সম্ভব। সেক্ষেত্রে আপনাকে সামান্য পরিশ্রম তো করতেই হবে। আর এই পরিশ্রমটুকুর পর আপনিই তো হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল উপস্থাপক। কিংবা অনেকের কাছ থেকেই শুনতে পারবেন আপনার প্রশংসা।

** এমন কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া যেখানে পাবলিক স্পিকিং চর্চা করা হয়। ** চাইলে কোনো শর্ট কোর্স করা যেতে পারে।
** নিয়মিত সংবাদ শোনা এবং নিজের ঘরে বসে একা একা তা প্র্যাক্টিস করা
** খোলা/জনশূন্য মাঠের মধ্যে প্র্যাক্টিস
** বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে পাবলিক স্পিকিং সংক্রান্ত যেসব টিম আছে সেগুলোতে যোগ দেওয়া।
** বড়দের সাহায্য নেওয়া

এবার একটু বিশদ ভাবে বলি
** আপনার আশেপাশেই দেখবেন এমন কোনো ক্লাব আছে যারা এগুলো চর্চা করে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ক্লাব থাকে। তাছাড়া স্থানীয় ভাবেও এমন ক্লাব থাকে অনেক জায়গাতে। এ ধরনের ক্লাবের সাথে লেগে থাকলে খুব ভালো হয়।
** কোর্স-কোর্স-কোর্স—হ্যা পাবলিক স্পিকিং শেখার জন্য অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান কোর্স করায়। সেগুলোতে ভর্তি হতে পারেন। এ ধরনের কোর্সে খুব অল্প টাকা খরচ হয় তাই করে ফেলতে পারেন।
** সংবাদ শুনুন এবং একা একা প্র্যাক্টিস করুন। ঘরে কিংবা বাইরে যেকোনো জায়গাতে মুখের সামনে মাইক্রফোন জাতীয় কিছু একটা ধরে(ধরুন, একটা কাগজ পেচিয়ে) প্র্যাক্টিস করতে থাকুন। এটা খুবই কাজের। নিয়মিত কিছুদিন করলে সাহস টা অনেক বেড়ে যায়।
** ফেসবুকে যেসব পেজ গুলো উপস্থাপনা বা এসম্পর্কিত কাজ করে সেগুলোতে যোগ দিন। প্রয়োজনে অন্যের সহযোগিতা নিন যারা উপস্থাপনার কাজ করেন। তবে সবচেয়ে বেস্ট রুমে প্র্যাক্টিসের পাশাপাশি কোনো টিমের সাথেও অনুশীলন করা। তাহলে, আর দেরী কেন?? শুরু করে দিন আজ থেকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top