হাইপার হাইড্রোসিস

এই গরম আর রোদে ঘাম হওয়ারই কথা। ঘাম-গ্রন্থিগুলো আসলে খুব গরমে ঘামের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে শরীরকে শীতল করে। শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি একটি কার্যকর প্রক্রিয়া। কিন্তু কেউ কেউ খুব বেশি ঘামেন। কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে অস্বাভাবিক বেশি ঘাম হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিষয়টিকে হাইপার হাইড্রোসিস বলে।

কেউ কেউ অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই ঘামেন। অল্প গরমেই একেবারে অস্থির হয়ে নেয়ে ওঠেন। প্রতি ১০০ জনে তিনজন মানুষের এ সমস্যা হয়ে থাকে। বিশেষ করে, হাত-পা বা বগল প্রভৃতি জায়গায় ঘাম বেশি হয়।

সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই, তাই এর নাম ইডিওপ্যাথিক হাইপার হাইড্রোসিস। অতিরিক্ত গরম, আবেগ, উত্তেজনা এবং গরম মসলাদার খাবার তাঁদের ঘাম বাড়িয়ে দেয়। আবার মেরুদণ্ডের কোনো রোগ বা আঘাতে কোনো একটা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এক হাত বা এক পা অথবা শরীরের বিশেষ কোনো দিক বা অংশ বেশি ঘামতে পারে।

ঘাম হওয়ার কারণ : কেউ অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে, নার্ভাস হলে কিংবা রোদে গেলে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকেও অতিরিক্ত ঘাম ঝরতে পারে। মসলাযুক্ত বা ঝাল বা তৈলাক্ত খাবার খুব বেশি পরিমাণে খেলেও শরীর থেকে ঝরতে পারে বেশি পরিমাণে ঘাম। আয়োডিনযুক্ত খাবার, যেমন-অ্যাসপ্যারাগাস, ব্রকলি, গরুর মাংস, যকৃৎ, পেঁয়াজ, খাবারে অতিরিক্ত লবণ খেলেও ঘাম বেশি ঝরতে পারে। শারীরিক দুর্বলতা থেকেও ঘাম বেশি ঝরে। পাউডার ব্যবহার থেকে ঘাম দূর করার পরিবর্তে তা আরও বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত ধূমপানও ঘামের অন্যতম কারণ।এমনিতেই সারা শরীর বেশি ঘামে—এমনটা হতে পারে কোনো অসুখ-বিসুখেও। যেমন: থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যায় বা নারীদের মেনোপজের পর হরমোনের তারতম্যের কারণে। লসিকা গ্রন্থির ক্যানসার বা কিছু ওষুধের প্রভাবেও এটা হতে পারে। অতি উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা আছে যাঁদের, তাঁরাও এতে ভোগেন।খাওয়ার পরে বা খেতে বসলে ঘেমে যান অনেকে। এমনটা হয় ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুরোগে। ফেসিয়াল নার্ভে সমস্যা হলেও এ সমস্যা দেখা দেয়।

করণীয় : ঘামের সঙ্গে যেহেতু সোডিয়াম, পটাশিয়াম, বাইকার্বোনেট বেরিয়ে শরীর দুর্বল ও অস্থির করে তোলে, তাই পানির সঙ্গে লবণ, চিনি, পাতিলেবু মিশিয়ে শরবত খাওয়া ভালো। গরমে দইয়ের ঘোল ও ডাবের পানি পান করলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়। কোল্ড ড্রিংকসের পরিবর্তে ফ্রেশ ফ্রুট জুস ও টাটকা ফল খাওয়া উত্তম। ভিটামিন বি-১২-এর অভাবে যেহেতু হাইপারহাইড্রোসিস হয়, তাই বি-কমপ্লেক্সযুক্ত খাবার বেশি বেশি খাবেন। রক্ত পরীক্ষার মধ্যে থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করা যায়।
এমনিতে জ্বর, আকস্মিক শারীরিক পরিশ্রম, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশি ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। বরং অতিরিক্ত ঘাম এড়ানোর জন্য এই সময়ে ঠান্ডা ও প্রচুর পানিযুক্ত খাবার, ফলমূল ও সবজি খান। বেশি ঝাল-মসলাদার ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। রোদ ও গরম থেকে বাঁচতে পাতলা সুতি হালকা রঙের জামা-কাপড় পরুন, ছাতা বা হ্যাট ব্যবহার করুন। পা ঘামলে জুতো না পরে এ সময় খোলা স্যান্ডেল পরুন, মোজা এড়িয়ে চলুন। ঘামের দুর্গন্ধ এড়াতে অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো নিঃসরণ কমায়, কিন্তু ডিওডোরেন্ট কেবল ঘামের গন্ধ আড়াল করে। খুব বেশি যাঁরা ঘামেন, তাঁরা অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে এগুলো বেশি ব্যবহার করলে অ্যালার্জি হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top