আওকিগাহারা: দ্যা সুইসাইড ফরেস্ট

পৃথিবীতে এমন অনেক রহস্যময় স্থান রয়েছে যার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যাই নি। এর মধ্যে আওকিগাহারা এমন একটি রহস্যময় স্থান যার রহস্যের সমাধান এখনো পাওয়া যাই নি।

আওকিগাহারা কখনও কখনও জাপানের আত্মহত্যার জন্য সর্বাধিক জনপ্রিয় সাইট হিসাবে পরিচিত। এজন্য এটিকে দ্যা সুইসাইড ফরেস্ট বলা হয়। জাপানের আত্মহত্যার হার উন্নত বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। এজন্য আকিগাহারা জনপ্রিয় সুইসাইড স্পট হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

জাপানিদের মতে, অনেক আগে সেখানে স্থানীয় জনগণের মধ্যে একধরণের রীতি চালু ছিল যেখানে তারা তাদের কোনো প্রবীণ বা অসুস্থ আত্মীয়কে কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে রেখে আসতো, মরার জন্য। এভাবেই সেটি আত্মহত্যার একটি স্থানে পরিণত হয়। শীত মৌসুমের শীত ও অন্ধকার মাসে, বসন্তের শেষের দিকে এবং গ্রীষ্মের শুরুতে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। প্রতিবছর প্রায় ১০০ এর বেশি মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এখান থেকে। ১৯৫০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জন এর বেশি আত্মহত্যা করেছে এই বনে। এর কারণ এখন পর্যন্ত  জানা যাই নি।

এটি হারিয়ে যাওয়ার জন্য খুব সহজ জায়গা। কেননা এই বনে ঢুকলে “কম্পাস” ও “জিপএস” কাজ করা প্রায় বন্ধ করে দেই। এজন্য এখানে প্রবেশকৃত দর্শনার্থীদের দৃঢ়ভাবে ট্রেইলে থাকার জন্য উপদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু লোক রয়েছে, যারা বাইরে না আসার তাগিদে বনে প্রবেশ করেন। আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে বনের প্রবেশ পথে চিহ্নগুলি দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় যে তাদের জীবন মূল্যবান। কিন্তু এই বনের বেশি গভীরে চলে গেলে ফিরে আসা অনেকটা অসম্ভব হয়ে যাই।

কিছু মানুষের মতে, এই বনে প্রেতাত্মারা ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। অশুভ আত্মাদের ডাকে অথবা অন্য কোনো অজানা  কারণে যেটাই  হোক না কেন এখানে মানুষজন আত্মহত্যা করতে আসছে প্রতিনিয়ত।এই আত্মহত্যার রহস্য এখনো অজানা থাকার কারণে এটি পৃথিবীর একটি অন্যতম রহস্যময় স্থান হিসেবে বিবেচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top