সিজোফ্রেনিয়া

সিজোফ্রেনিয়া ব্রেইনের একটি দুরারোগ্য ব্যাধি।এটা একজন মানুষ কীভাবে চিন্তা এবং কাজ করে, কীভাবে আবেগ প্রকাশ করে, কীভাবে বাস্তবতা বোঝে তা পরিবর্তন করে দেয়।

সিজোফ্রেনিয়া হলে অনেকে মনে করেন রোগীর মাল্টিপল পার্সোনালিটি( একই চরিত্রে একাধিক ব্যক্তিত্ব)  তৈরী হয়,এধারণা সঠিক নয়।সিজোফ্রেনিয়া হলে মানুষ বুঝতে পারে না কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যা। কিছু কিছু সময় রোগী বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ স্পর্শ হারায়।পুরো পৃথিবীটা তাদের কাছে বিভ্রান্তিকর চিন্তা, ছবি এবং শব্দ মনে হয়। রোগীর হঠাৎ করে পার্সোনালিটি (ব্যক্তিত্ব) এবং ব্যবহার বদলানোকে সাইকোটিক এপিসোড বলা হয়। বাস্তবতার সঙ্গে স্পর্শ হারালে এটা হয়।

বংশগতি, শৈশবের পরিবেশ, নিউরোবায়োলজি এবং মানসিক ও সামাজিক প্রক্রিয়াসমূহ এ রোগের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসাবে প্রতিভাত হয়৷ কিছু উত্তেজক মাদক এবং ওষুধ এ রোগের উপসর্গগুলোর আবির্ভাব বা এদের আরও গভীর করে বলে প্রতিয়মান হয়৷ বর্তমানে এ রোগের গবেষণায় নিউরোবায়োলজির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে, যদিও এখনো কোন একক জৈব কারণ শনাক্ত করা যায়নি৷ এই রোগের সম্ভাব্য বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ সমষ্টি এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে যে, আদৌ এটি একটি একক ব্যাধি না একাধিক পৃথক উপসর্গের সহাবস্থান৷লক্ষণ-সমূহ এপিসোডিক বা হঠাৎ ঘটে থাকতে পারে। 

লক্ষণ-সমূহ:

১.অসংলগ্ন আচরণ।

২.এলোমেলো এবং সংযোগবিহীন চিন্তা ও তার বহিঃপ্রকাশ।

৩.জীবন এবং তার সংশ্লিষ্ট কাজের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলা।

৪.অডিটরি হ্যালুসিনেশন দেখা।

৫.ঠিকমতো তথ্য বুঝে, চিন্তাকরে কাজ করতে না পারা।

৬.দ্রুত ভুলে যাওয়া অথবা জিনিসপত্র হারানো।

৭.সিদ্ধান্ত নিতে না পারা।

সিজোফ্রেনিয়ার কারণ – সমূহ:

১. বাবা/ মা এর থাকলে অর্থাৎ জেনেটিক্স কারণে।

২.এই রোগ থাকা মানুষের ব্রেইনে কিছু কেমিকেল অনিয়মিত থাকতে পারে যেটা চিন্তা এবং আচরণের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

৩.ব্রেইনের অস্বাভাবিক কিছু গঠন।

৪.পরিবেশগত কিছু কারণেও হতে পারে।

যাদের সিজোফ্রেনিয়া হতে পারে/ হয়:

সিজোফ্রেনিয়া যে কোনো মানুষের হতে পারে।নারী এবং পুরুষ উভয়েরই এটা সমানভাবে হয়।যদিও এটা সব বয়সেই হতে পারে, সিজোফ্রেনিয়া এর উপসর্গ সাধারণত পুরুষদের কিশোর বয়সে অথবা ২০-২২ বছর বয়সে এবং নারীদের ২৫-৩৫ বছর বয়সে প্রথম দেখা দেয়।

সিজোফ্রেনিয়া কি প্রতিরোধ করা যায়?

এই রোগ প্রতিরোধ করার কোনো উপায় ডাক্তারদের জানা নেই। তবে এটা যদি তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে, তাহলে এটার মারাত্মকতা অনেক  কমানো যায়।

4 thoughts on “সিজোফ্রেনিয়া”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top