অ্যানিমেশন নিয়ে কিছু কথা

অ্যানিমেশন অ্যানিমেশন হলো স্থির চিত্রের একটি ক্রম যেগুলোকে লক্ষ্য করলে জীবন্ত এবং সচল মনে হয়। চলচ্চিত্রকর এবং অ্যানিমেশনের সংজ্ঞা এবং মূল কারিগরী নীতি একই।নির্মাণ প্রক্রিয়ার ভিন্নতা অনুসারে চলচ্চিত্রকে জীবন্ত গতি( live action)  এবং অ্যানিমেশন এই দুইভাগে ভাগ করা যায়। জীবন্ত গতি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চলমান বস্তুটিকে ক্যামেরার সহায়তায় সময়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র  অন্তরালে (পারস্পরিকভাবে ২৪ টা) ফটো তোলা হয়।এ্যানিমেশন তৈরী, সংরক্ষণ বা ধারণ করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, যেমন: অ্যানালগ পদ্ধতিতে ক্রম-সচল বই, সচল ছবি, ভিডিও টেপ আর ডিজিটাল পদ্ধতিতে জিআইএফ, ফ্লাশ বা ডিজিটাল ভিডিও মাধ্যম ব্যবহার করা হয়।এই ছবিগুলি চলমান বস্তুটির বিভিন্ন মূহুর্তকে স্থির চিত্র করে ফেলা হয়। পরে প্রোজেক্টরের সহায়তায় এই ফ্রেমগুলিকে ক্রম অনুসারে পর্দায় প্রক্ষেপণ করা হয়।লাটিন ভাষার শব্দ anima (আত্মা/soul), এর ক্রিয়াবাচক শব্দ হল Animate । Animate শব্দর অর্থ আত্মা দান করা, বা প্রাণ দিয়া।অর্থাৎ একটি জড় বস্তুতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা। অ্যানিমেশনে জড়/স্থির চিত্রকে গতিশীল করে “প্রাণ দেয়া” হয় বলেই একে অ্যানিমেশন বলা হয়।
উইনসর মেক্‌কে (Winsor McCay)সম্পাদনা:

উইনসর মেক্‌কে-ই প্রথম অ্যানিমেশনকে একটি শিল্পকলা হিসেবে জন্ম দেওয়ার প্রয়াস করেন।মেক্‌কে ছিলেন একজন কম‌িক্স শিল্পী। তার ‘আজব দেশে ছোট্ট নিমো’ (Little Nemo in Wonderland) ছিল এটি জনপ্রিয় কমিক্‌স। নিজের সন্তানের জন্য তিনি প্রায় ৪০০০ ছবিকে ‘ছোট্ট নিমো’-Little Nemo (১৯১১) নামে অ্যানিমেশন ছবির রূপ দেন। তার এই চলচ্চিত্র খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।

স্টুডিওতে অ্যানিমেশন এবং বিকাশসম্পাদনা:

অ্যানিমেশন ছবির জন্য প্রয়োজন বহু সংখ্যক হাতে আঁকা ছবি। তাতে একজন মানুষের জন্য দীর্ঘ অ্যানিমেশন ছবি নির্মাণ করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে, অ্যানিমেশন ছবি নির্মাণের জন্য স্টুডিও গড়ে ওঠে। কয়েকজন শিল্পী একসাথে ছবি আঁকেন এবং সেগুলি ক্যামেরায় ফোটোর মাধ্যমে তুলে অ্যানিমেশন ছবি তৈরি করা হয়। অ্যানিমেশন ছবিগুলিকে কার্টুন (Cartoon) বলা হত। অ্যানিমেশনের জন্য প্রথম স্টুডিও খুলেছিল রাওল বার (Raoul Barre) নামে একজন লোক ১৯১৪ সালে। ১৯১৫ সালে পত্তন হয় ‘ব্রে-হার্ড প্রসেস কোম্পানী’র (The Bray-Hurd Process Company)

মিকি মাউজ সম্পাদনা:

মিকি মাউজের প্রথম ছবি ছিল ‘প্লেন ক্রেজি’ (Plane Crazy) (১৯২৮), দ্বিতীয় ছবি ছিল ‘দ্য গ্যালোপিং গচো’ (The Galloping Gaucho) (১৯২৮)। অবশ্য এই দুটি ছবি়ই পরিবেশকের অভাবের জন্য মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top