ডিসলেক্সিয়া

“ডিসলেক্সিয়া” শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে যার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় “শব্দ-সংক্রান্ত সমস্যা”“ডিসলেক্সিয়া” মূলত একটি স্নায়বিক অসামঞ্জস্যতা, যার ফলে মানুষের ভাষা শেখার এবং ব্যবহার করার যে মূল দক্ষতা তা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

পর্যাপ্ত বুদ্ধিমত্তা থাকা সত্ত্বেও তারা পড়া পড়তে, বুঝতে বা লেখতে সমস্যার মুখে পড়ে। তারা পড়ার অক্ষরগুলো এলোমেলো ভাবে নড়তে বা উল্টো করে দেখে। এর কারণ হল আমরা যা শুনি বা দেখি তার একটা স্থায়ী আকার আমাদের মস্তিষ্কে  থেকে যায়। যার ফলে তা বুঝতে বা মনে রাখতে সহজতর হয়। কিন্তু এই রোগে আক্রান্তদের সেই ক্ষমতা থাকে না। ফলে তারা সঠিকভাবে অক্ষরগুলো চিনতে পারে না। আর এই কারণেই তারা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়।

এই রোগে আক্রান্তদের  মস্তিষ্কে কোন ধরনের সমস্যা থাকে না। এমনকি তারা মানসিকভাবেও সুস্থ স্বাভাবিক থাকে। এরা চারপাশের জগতকে অনেক কৌতূহলের সাথে বিভোর হয়ে পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু গতানুগতিক পড়ালেখার সাথে  সামঞ্জস্য করে চলতে পারে না। আর এইসব বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ দেখা যায়, তা হলঃ

১। এই রোগে আক্রান্ত বাচ্চা অনেক দেরিতে কথা বলা শেখে। ডান-বাম, দিকনির্দেশনা নির্ণয়ে ভুল করে থাকে।

২। এরা বিভিন্ন কাজকর্মে অপটু হয়ে থাকে। সামান্য জামার বোতাম, টাই, জুতার ফিতে বাঁধতেও এদের সমস্যা হয়ে থাকে।

৩। বইয়ের লেখা তারা নড়তে বা উল্টো দেখে। ফলে এরা সঠিক উচ্চারণ করে পড়তে পারে না।

৪। বাচ্চা বইয়ের অক্ষরগুলো সঠিকভাবে বানান করে পড়তে পারে না। এমনকি অনেকসময় স্কুলের ব্যাকবোর্ডের লেখাও তার বোধগম্য হয় না।

৫। শিশু বুদ্ধিমত্তা ও কানে শোনার ক্ষমতা থাকলেও এরা শোনা কথা সেভাবে মনে রাখতে পারে না।

৬। এরা একা থাকতে পছন্দ করে এবং তাদের মধ্যে অতিরিক্ত লজ্জা কাজ করে।

৭। সাধারণত এরা অনেকবেশি কল্পনাবিলাসী হয়ে দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকে।

সাধারণত জেনেটিক্সের কারণেই এই রোগ হয়ে থাকে র ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা প্রধান তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। আর তা হলঃ

 প্রাথমিক ডিসলেক্সিয়া (Primary Dyslexia)

অনেকেই বংশগত ভাবে এই রোগে ভুগে থাকে। অনেক সময়  মস্তিষ্কের বাম পাশের একটি অংশ কোন কারণ ছাড়াই কাজ করে না। বড় হওয়ার পরেও এই সমস্যা থাকে। এবং যার ফলে এরা পড়ালেখার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যায় পড়ে।

২।সেকেন্ডারি বা জন্মগত ডিসলেক্সিয়া (Secondary or Developmental Dyslexia)

বাচ্চা যখন মায়ের গর্ভে থাকে তখন হরমোনের তারতম্য হলে এই রোগ দেখা দেয়। বাচ্চা বড় হতে হতে তা সেরে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

 আঘাতজনিত ডিসলেক্সিয়া (Trauma Dyslexia)

আমাদের মাথার যে অংশে পড়াশুনা নিয়ন্ত্রিত হয়, যদি সেই স্থানে কেউ কোন ভাবে আঘাত পায় তবে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এবং তা শিশু জন্মের সময় কিংবা পরবর্তী যেকোন সময়ে আঘাত প্রাপ্ত হলে হতে পারে।

এটা এমন একটি রোগ যার কোন ওষুধ নেই। তবে চাইল্ড সাইক্রিয়াটিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী চললে এ সমস্যা আয়ত্তে নিয়ে চলা যায়। কিছু বিশেষ পদ্ধতি মেনে চললে শিশু সহজেই পড়ালেখা শিখতে সক্ষম হয়। সেক্ষেত্রে তার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার। এসব শিশু অনেক বেশী চারপাশের জগত সম্পর্কে কৌতূহলী হয় বলে, এদেরকে ভালভাবে যত্ন নিলে এরা তাদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top