আর নয় বিষণ্ণতা

বর্তমানে  আমাদের চারপাশে  একটি সমস্যা    ক্রমশ বেড়ে চলেছে, যেটিকে অামরা বলি বিষণ্ণতা  বা Depression ।  একজন কিশোর -কিশোরী   থেকে প্রাপ্তবয়স্ক  সবাই এই রোগে কমবেশি অাক্রান্ত। আমরা কতটুকুই বা জানি এই 

এই বিষয়ে?

Depression কি ? এটাকে জানতে হলে বাকি সব কোটা জিনিস এর মতন  চলুন দেখা যাক এর Origin কোথায় ? শব্দটি এলো ঠিক কোন জায়গা থেকে? উল্টেপাল্টে নারাচারা করে একটু দেখে নিই।

1275–1325 সময় টা খুব পুরানো হলেও জন্মো হয়েছিল সেই সময়েই  Middle English শব্দ  depressen ক্রোমে বদলাতে থাকে Anglo-French, Old French depresser  তারপর হয়  Latin dēpressus এবং তারপর  কাল এবং ব্যাকরণের মজার খেলায় dēprimere হয়ে ওঠে de- de- + – ও primere, premere> press যা একসাথে হয় Depress যা থেকে হয় ডিপ্রেশন।  যদি আরো অনেক জানার ইচ্ছা হয় তাহলে উইকিপেডিয়া চেক করতে পারো।

এবার আসি এই Depression  জিনিস টা কি?

Depression বা বিষণ্ণতা একটি প্রচলিত এবং মারাত্মক মানসিক অসুস্থতা যা আপনার অনুভূতি, চিন্তা এবং আচরণকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। এটি মানুষ কে তার স্বাভাবিক কাজ করতে বাধার সৃষ্টি  করে।

একটি শিশু যদি কোনো কারণে বিষণ্নতায় ভোগে বা ভুগছে বলে মনে হয়, তাহলে দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। কেননা, বিষণ্নতা শিশুদের মানসিক বিকাশকে সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্থ করে।

আবার ঠিক তার উল্টো চিত্রও পরিলক্ষিত হয়। সাময়িক দুঃখ বা দুশ্চিন্তাকেও কেউ কেউ বিষণ্নতা বলে চালিয়ে দেন, যদিও এতে তেমন দোষের কিছু নেই। আপনি প্রায়ই পরীক্ষার আগে আপনার কোনো না কোনো বন্ধুকে বলতে শুনবেন, “প্রচন্ড ডিপ্রেশনে আছি।” যদিও এটা মোটেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা নয়; সে বিষণ্নতার অর্থ সঠিকভাবে জানে না বলেই হয়তো এটা বলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৩০ কোটি মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা চার ভাগের চেয়ে বেশি। তবে সংখ্যাটা অবশ্যই আরও বেশি হতে পারে।

Depression  এর লক্ষন গুলো কি অাসলে?

  

বিষণ্ণতার  লক্ষন হতে পারে বিষন্নতা, চিন্তা ও মনোযোগে অসুবিধা এবং খাদ্যাভ্যাস ও বিশ্রামের হ্রাস-বৃদ্ধি। বিষাদে ভুগছেন এমন লোকদের মধ্যে হতাশা, আশাহীনতা এবং কখনও কখনও আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা থাকতে পারে। বিষাদের মূল লক্ষণগুলোকে অ্যানহেডোনিয়া বলা হয়, যা সাধারণত মানুষের মধ্যে আমোদ উপস্থাপন করে এমন কিছু ক্রিয়াকলাপে আগ্রহ বা অনুভূতি হ্রাসকে বোঝায়।

বিষণ্ণতা কেন হয় আসলে?

১.  রোগী inhibitory type হয়ে থাকলে।

২. মস্তিষ্ককোষের উত্তেজনা নিস্তেজনা সমমাত্রিক, কিন্তু যে সময় নিস্তেজক উদ্দীপক তার মস্তিষ্কে অনুপ্রবিষ্ঠ হয়েছে সেই সময় বা তার কিছু আগে সে তার কাছে যা মূল্যবান তা হারিয়ে ম্রিয়মান হয়ে আছে, ব্যর্থতা ও হতাশার জ্বালায় ভুগছে। এই সময় খুব সামান্য নিস্তেজনাকারী উদ্দীপকের প্রভাবে সে ভেঙে পড়ে বিষণ্ণতা রোগী বলে চিহ্নিত হতে পারে

৩. ম্যানিক রোগীর মতোই সে বিষণ্ণতা রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

 বিষণ্ণতা  থেকে মুক্তির জন্য করণীয় :

১. Sharing is Caring :  আপনার এমন বন্ধুমহলের সাথে সময় কাটালে তা আমাদের সময় এবং মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। এমনকি বিষণ্ণতার কারণ নিয়েও তাদের সাথে কথা বললে ভালো লাগতে পারে। আপনজনদের সাথে গল্প গুজব করাটিও মন ভালো করার জন্য যথেষ্ট।

২. নিজের উপর বিশ্বাস রাখা: এ বিষয়টি অনেক  গুরুত্বপূর্ণ।  যেকোনো  বিষয়ে  যাই হয়ে যাক এটা মনে করতে হবে যে অামি পারব। তাহলে  কখনো মন খারাপ  হবে না।

৩.বাস্তবতা মেনে নেওয়া :   জলে যেমন কুমিরের সাথে  লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা কোনো বুদ্ধিমানরে কাজ না তেমন বাস্তবটা  মেনে নিন সেটা  যতই  কঠিন হোক না কেন , দেখবেন শান্তি পাবেন, ধীরে ধীরে ডিপ্রেশন নিজের থেকেই হারিয়ে যাবে।

৪. সুস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া : এর ফলে অাপনার শরীর ভালো  থাকবে।অার  শরীর ভালো থাকলে  মন ও ভালো থাকবে।

৫.নতুন কিছু করুন: আপনাকে যে জোর করে আপনার মনের বিরুদ্ধে নতুন কিছু করতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। মনে করে দেখুন, অতীতে এমন কোনো কিছুর কথা ভেবেছিলেন কি না, যা করা হয়ে ওঠেনি। যদি এমন কিছু থাকে, তাহলে সেটি হাতে নিন। আপনি নতুন কোনো কাজ শিখতে পারেন, কিংবা নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা অর্জনে বেরিয়ে পড়তে পারেন।

৬. প্রাথর্না : আপনার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী উপাসনা বা প্রার্থনা করতে পারেন। এতে মানসিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং বিষণ্নতা কাটাতে তা বড় ভূমিকা পালন করবে।

৭. আনন্দের উৎস খুঁজুন: আপনি হয়তো ভাবেন, “এমনিতেই মন ভালো নেই। তাই কোথাও গিয়ে ভালো লাগবে না” এ ভাবনাটা পুরোপুরি ভুল। মানুষের আনন্দ লাভের যতগুলো উপায় আছে, তার মধ্যে একটা হলো ‘ভ্রমণ’। প্রায় যেকোনো পরিস্থিতিতে ভ্রমণ মানুষের মনকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে।

 

শেষ কথা:

বিষণ্ণতা  এমন একটি রোগ যা মনের সাথে সম্পর্কযুক্ত।  তাই সবসময়  চেষ্টা  করা উচিত এমন কোনো কিছু  না করা যাতে  মনের উপর চাপ পড়তে পারে।  বিশেষত  কখনো নিজেকে অপরের সাথে তুলনা করা যাবে না।  মনে রাখবেন  অাপনি অাপনার নিজের গুণে অনন্য।  “So Don’t  Compare yourself  to others. “

আপনার পরিচিত কোনো মানুষ যদি বিষণ্নতায় ভোগেন, তবে আপনারও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। আপনি অবশ্যই তার পাশে দাঁড়াবেন এবং তার প্রতি আন্তরিক হবেন। তবে তার মনস্তত্ত্বও আপনাকে বুঝতে হবে; এমন কিছু বলবেন না, যাতে করে তার মনে হয় যে আপনি তার সমস্যাটিকে ছোট করে দেখছেন। “এত চিন্তা করো না”, “আমি তোমার সমস্যাটা বুঝতে পারছি”, “সব ঠিক হয়ে যাবে” – এমন ধরনের কথা তাকে বলা উচিত হবে না। কেননা, পরোক্ষভাবে এসব কথার মাধ্যমে তার সমস্যাটাকে ছোট করেই দেখা হয়। বরং আপনি তাকে কথা বলানোর চেষ্টা করুন। আপনি তার বিশ্বস্ত ও কাছের মানুষ হয়ে থাকলে তার সমস্যাগুলো সে যেন আপনাকে খুলে বলে, সে বিষয়ে তাকে উৎসাহিত করুন, তবে চাপাচাপি করবেন না।

আপনি শুধুমাত্র তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলেই সে অনেক উপকৃত হবে। আপনাকে খুব বেশি কিছু বলতে হবে না, শুধু শুনে যান। আর হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার খুব কাছের বন্ধুটি কখনো চুপচাপ বা মন খারাপ করে থাকলে, সবাই মিলে সেটা নিয়ে মজা করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন, সে বিষণ্নতায় ভুগছে না তো?

ভালো  থাকুন সবাই। ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top