এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স

এন্টিবায়োটিক শব্দটির সাথে আমরা কম বেশী সবাই পরিচিত। সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ,এন্টিবায়োটিক হলো সেই সব ওষুধ যা ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক বা পরজীবি ধ্বংস করে।এখন এই ওষুধ যদি সঠিক নিয়মে প্রয়োগ করা না হয় তাহলে এক পর্যায়ে জীবানু সেই ওষুধের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে যার ফলে সেই ওষুধে কর্মক্ষমতা কমে যায় কিংবা কাজ হয়না।একেই “এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স” বলে।

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ভয়াবহ কেন?

আমরা যখন কোনো রোগে আক্রান্ত হই তখন ডাক্তার আমাদের কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন এবং পরবর্তীে নিদিষ্ট মেয়াদের জন্য ঔষধ দিয়ে থাকেন। কিছু ঔষধ খাওয়ার পর খানিকটা ভালো অনুভব করলেই অনেকেই মনে করে তারা সুস্থ হয়ে গিয়েছে এবং পরবর্তীতে আর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গুলো খান না ফলে রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়া গুলো যখন দেহ থেকে বের হয়ে প্রকৃতিতে যায় তখন অন্য সাধারণ ব্যাকটেরিয়া গুলোকেও রেজিস্ট্যান্স করে ফেলে ফলশ্রুতিতে যে এন্টিবায়োটিক আগে কাজ করতো তখন টা সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আর কাজ করে না। এতে সেই রোগী আরও অসুস্থ হয়ে যায় এবং একসময় হয়তো তার রোগ সারবার আর কোনো বিকল্প ব্যবস্হা থাকে না।

শিশুদের কেন এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হয়?

বিজ্ঞানী মনিরুল আলম জানান,প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি আসা রোগীদের একটি বড় অংশের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা যায়। আমরা এরকম শিশুদের পরীক্ষা করেছি, যারা আমাদের কাছে আসার তিন মাস আগেও কোনো এন্টিবায়োটিক খায়নি। অথচ তাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়াগুলো মাল্টিপল ড্রাগ রেজিস্টেন্স।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. সায়েদুর  জানান, বিশ্বে যে হারে নতুন এন্টিবায়োটিক তৈরি করা হচ্ছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হারে বাড়ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স। যার ফলে অদূর ভবিষ্যতে সামান্য হাঁচি-কাশি-জ্বরেও মানুষের মৃত্যুঝুঁকি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। একটা এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করতে লাগে ১৫ বছর। আগামী সাত বছরে দুইবারের বেশি এন্টিবায়োটিক আসার সম্ভাবনা নেই। এক সময় দেখা যাবে, রোগের জীবাণুকে কোনো ওষুধ দিয়েই ধ্বংস করা যাচ্ছে না।

পরিবেশে এই রেজিস্ট্যান্স কীভাবে তৈরি হয়?

শিশুদের এমন এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স হওয়ার পেছনে জেনেটিক বা বংশগত কোনো কারণ না-ও থাকতে পারে। তবে আমরা যেসব প্রাণীর মাংস বা শাকসবজি খাই সেইসব প্রাণীর শরীরে বা সবজির উৎপাদনে যদি এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, সেগুলো রেজিস্টেন্স তৈরি করে, যার প্রভাব মানুষের ওপর পড়ে।

অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান জানান, মানুষের প্রোটিনের জন্যে যেহেতু, মাছ, মুরগি, গরু দরকার এবং সেগুলোকে সস্তায় বাঁচানোর জন্যে এন্টিবায়োটিক দরকার। অর্থাৎ মানুষকে তার প্রোটিনের জন্যে ভবিষ্যতকে ঝুঁকিগ্রস্ত করা হচ্ছে।

করণীয় কি?

১. চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক কেনা/বিক্রি বন্ধ করতে হবে।

২. এন্টিবায়োটিকের ডোজ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না, ডোজ সম্পূর্ণ করতে হবে এবং নিয়ম মেনে খেতে হবে।

৩.  জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়া এই চারটি রোগ সারাতে এন্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজন নেই। তাই চিকিৎসককে এই চারটি কন্ডিশনে এন্টিবায়োটিক দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

  1.  মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, ওষুধ সেবন করার বিষয়ে যথার্থ জ্ঞান ও তার প্রয়োগের মাধ্যমে এই ভয়াবহ অভিশাপ ঠেকানো সম্ভব।এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সম্পর্কে জানুন। ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক কে না বলুন।

7 thoughts on “এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top