সংস্কৃতির ব্যবচ্ছেদ

সকাল ৯টা।  মিজান সাহেব তার ৫ বছরের ছেলেকে ডেকে বললেন, ” আব্বু , এসো খেতে এসো। ” আর বাচ্চা ছেলেটি চিৎকার করে বললো, ” নেহি পাপা, ম্যায় নেহি খা সাত্তি । মুঝে ডোরেমন দেখনা হ্যায়। ”

এরকমই করুন অবস্থা আমাদের দেশে ঘরে ঘরে।  যে সব বাচ্চারা ঠিকভাবে বাংলা বলতে  পারে না তারাই অবলীলায় হিন্দি ভাষা আওড়ে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে হিন্দি সিরিয়ালের চরিত্রগুলোর যত কদর তার ছিঁটে ফোঁটা কদরও পাই না বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর সুস্থ ধারা নাটকগুলো।

যেখানে তরুণ সমাজ একটি দেশের নির্ভিক কান্ডারি হিসেবে দেশের উন্নতির ভিত রচনা করে সেখানে আজ পাশ্চাত্য ধারায় প্রভাবিত তরুণেরা  বাংলা বলতেও লজ্জা পায়।  বাংলা ও ইংরেজীর অরুচিকর মিশ্রনে কথা বলাটা বর্তমান তরুণ প্রজন্ম “STYLE” হিসেবে নিচ্ছে। কিন্তু আমরাই বিশ্বের একমাত্র জাতি যারা মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। অথচ আজ আমরাই বাংলায় কথা বলতে কুন্ঠিত হই।  আজ আমরা ১৯৫২ সালের ভাষার জন্য  শহীদদের আত্মত্যাগকে ধূলোয় লুন্ঠিত করে পাশ্চাত্য ও ভিনদেশি অপসংস্কৃতির চর্চা করে নিজেরাই  নিজেদের অপমান করছি।

আমাদের ভাষা সংস্কৃতি ও স্বকীয়তাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে ভিনদেশি অপসংস্কৃতির আগ্রাসন। আর  সেইদিকে আমাদের ভ্রূক্ষেপ ও নেই।

আমাদের এই সুন্দর দেশের সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে হবে।  আমরা যদি সবাই সচেতন হই তবেই এমন একদিন আসবে যেইদিন আমরা বাঙালি নয় বরং পাশ্চাত্য দেশের সেই অত্যাধুনিক মানুষেরাই আমাদের হিংসা করবে আমাদের সুন্দর সংস্কৃতির জন্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top