অতিরিক্ত ঘুম

ইশ! আজ যদি ছুটি হতো তাহলে আজকে আরো একটু ঘুমিয়ে কাটাতে পারতাম। আজ কাজে না গেলেই হতো। ঘুম তো ফুরায় না!!

ছুটির দিনগুলো বাদে বাকি অন্যান্য দিনগুলি নিয়ে অনেকেরই এরকম অভিযোগ থাকে। বাড়তি ঘুমের জন্য তারা হাপিত্যেশ করে। কিন্তু অতিরিক্ত কোনো কিছুই যে ভালো নয় । অন্য সকল কিছুর মত অতিরিক্ত ঘুমও ভালো নয়।

কই আমি তো অতিরিক্ত ঘুমাই না?

অনেকের কাছেই তাদের যে ১১/১২ ঘণ্টার ঘুমটা অতিরিক্ত মনে হয়না। উল্টো তারা ভাবে যে ২৪ ঘণ্টা ঘুমুতে পারলেই ভালো হতো। কিন্তু একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার ঘুমই যথেষ্ট।যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শন ইয়ংস্ট্যাড্ট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বলেছেন, সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন যা-ই হোক, সাত ঘণ্টার বেশি ঘুম ঠিক নয়। অন্যান্য গবেষণারও মিল পাওয়া যায় এর সঙ্গে। দেখা যায়, মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য সাত ঘণ্টা ঘুমই পর্যাপ্ত।কারও কাছে যদি মনে হয়, সাত ঘণ্টা একটু কম হয়ে যাচ্ছে। মাথা ঘোরাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা তাহলে আরও এক ঘণ্টা ঘুমানোর অনুমতি দেন। কিন্তু কোনোভাবেই এর বেশি নয়। ছুটির দিনে আরেকটু বেশি ঘুমালে কোনো অসুবিধা নেই; তা-ও নয় ঘণ্টার বেশি নয়।

অতিরিক্ত ঘুমানোর কারণ

১) আমাদের দেশের মায়েরা সাধারণত আয়রনের অভাবে ভুগে থাকেন আর সেক্ষেত্রে আয়রনের অভাব আছে এমন মানূষের ঘুম বেশি হতে পারে।

২) যাদের ওজন বেশি তাদের ঘুম বেশি হতে পারে।

৩) যেসব মানুষ রাতের বেলায় ঘুমাতে পারেন না তারা দিনের বেলায় অনেকাংশে অনেক ঘুমাতে দেখা যায়।

৪) পারকিনসন্স, এনকেফালাইটিস, এলজেইমার্স, হাইড্রোসেফালাস-এই রোগের রোগীরা বেশি ঘুমাতে পারে।

৫) দীর্ঘমেয়াদী অবসন্নতায় আক্রান্ত রোগীরা অতিরিক্ত ঘুমায়।

৬) ফাইব্রোমায়েলজিইয়ার রোগীরা অতিরিক্ত ঘুমায়।

৭) অনেক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে রোগীরা অনেকক্ষণ ঘুমায়।

৮) এলকোহল সেবনের কারণে অতিরিক্ত ঘুম হয়

বেশি ঘুমালে সমস্যা কোথায়?

অনেকের মতে ভালো ঘুম হলে চেহারা সুন্দর হয়। এটা যেমন ঠিক তেমনি অতিরিক্ত ঘুম হলে নানা রোগ দেখা দেয়।

ডায়াবেটিস

বেশি ঘুমালে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়৷ যার ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাছাড়া স্থূলতা ও ডায়াবেটিস হাত ধরাধরি করে চলতে পছন্দ করে।

স্থূলতা

বর্তমানে এই সমস্যা ক্রমবর্ধমাণ। কম ঘুমালে যেমন এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, ঠিক তেমনই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঘুমালেও এই সমস্যা হয়। বেশি ঘুমালে শরীরের কোনও মুভমেন্ট হয় না ফলে ক্যালোরি বার্ন হয় না যার ফলে অতিরিক্ত মেদ জমে। বেশি না ঘুমিয়ে ব্যায়াম করুন এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

আয়ুষ্কাল লোপ

ভয়ানক হলেও সত্যি এটাই। অত্যধিক ঘুম আয়ু কমিয়ে দেয়। রোগ না হলেও যারা বেশি ঘুমান তারা অন্যদের তুলনায় তাড়াতাড়ি মারা যান। হতাশা: যারা বেশি ঘুমান তাদের মুড সুইং খুব বেশি হয়। হতাশার পরিমাণও তাদের বেশি হয়। তাই বেশিও না কমও না, ঘুম সবসময় দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা।

হৃদরোগ

বর্তমানে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। যারা দিনে আট ঘণ্টার বেশি ঘুমান তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৩৪ শতাংশ বেড়ে যায়। তাই অত্যাধিক ঘুমালে আজ থেকে চেষ্টা করুন ঘুমের পরিমাণ কমানোর।

দুর্বল মস্তিষ্ক

খুব বেশি ঘুম আপনার চিন্তাশক্তি দুর্বল করে দেয়৷ ফলে কোনো কিছু মনে রাখতে না পারা, মাঝে মধ্যেই ভুলে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দেয়।সবচেয়ে বড় বিপত্তি হল মনোযোগের অভাব দেখা দেয়, যার ফলে কলেজ হোক বা অফিস সব জায়গাতেই অসুবিধা হয়।

ঘুমের ঘড়ি ঠিক রাখবেন কিভাবে?

স্লিপ সাউন্ডলি এভরি নাইট, ফিল ফ্যানটাসটিক এভরি ডে’—আ ডক্টর’স সল্যুশন টু সলভিং ইওর স্লিপ প্রবলেমস বইয়ের লেখক ও বিখ্যাত ঘুমের ওষুধ বিশেষজ্ঞ ডা. রবার্ট রোসেনবার্গ এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

১.সাত-আট ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুম ঘুমাতে হবে।

২. ঘরে ভারী পর্দা ব্যবহার না করা ভালো; যাতে দিনের প্রথম রোদ ঘরে ঢুকতে পারে।

৩. মৃদু শব্দে অ্যালার্ম দিয়ে রাখতে হবে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ওঠার অভ্যাস করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে ছুটির দিনেও এই নিয়ম মেনে চলার।

৪.বিকেল চারটার পর হালকা ঘুমানো বা ন্যাপ নেওয়া উচিত নয়।

৫.দিনের বেলা হাঁটাচলা করলে রাতে সময়মতো ঘুম আসবে। তাতে সাত ঘণ্টা ঘুমালেও ঝরঝরে লাগবে নিজেকে।

৬.এলকোহল জাতীয় দ্রব্যাদি সেবন পরিহার করতে হবে।

৭.সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন জাতীয় খাবার পরিহার করা কারণ এগুলো খেলে ঘুম আসবে না।

৮.ঘুম না আসলে ও বিছানায় জোর করে শুয়ে থেকে চোখ বন্ধ করে তাহকতে হবে,এক সময় না এক সময় ঘুম আসবে।

৯.লাইট অফ করে অবশ্যই ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে।

১০.রাতে ঠিকমত ঘুমাতে হবে।

১১.দিনের বেলায় কাজের সময় ঘুমের অভ্যাস পরিহার করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top