কলম

কলম বা লেখনী বা পেন প্রধানত লেখালেখির কাজে ব্যবহৃত একটি উপকরণ। ইংরেজিতে ‘পেন’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ পেন্না থেকে, যার অর্থ পাখির পালক।

আদিম যুগে মানুষ যখন পাহাড়ের গুহায় বসবাস করত তখন মনের ভাব প্রকাশে গুহার দেয়ালে কোন সূক্ষ্ম জিনিস দিয়ে ছবি আঁকত বা হিজিবিজি আঁকত। আবার অনেকসময় গাছের পাতার রস বা শিকারের রক্ত দিয়ে আঁকিবুকি কাটত। তার অনেক শতাব্দি পর মানুষ যখন কিছুটা সভ্য হতে শুরু করল তখন কাদা মাটির পাটায় বা নরম পাথরে লেখা শুরু করে ।

ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিসরীয়রা সর্বপ্রথম কলম আবিষ্কার করে। তারা একটি কাঠির ডগায় তামার নিবের মত বা ধাতব কিছু একটা পড়িয়ে লেখা শুরু করে। প্রায় ৪’হাজার বছর আগে রীতিমতো লেখালেখি শুরু করে দিয়েছিল গ্রীকরা। তারা কলম তৈরি করত হাতির দাঁত বা এ জাতীয় কিছু দিয়ে। যার নাম ছিল স্টাইলাস (Stylus)। সেজন্য এখনো লেখার ধরনকে স্টাইল (Style) নামে অভিহিত করা হয়। এদিকে মধ্যযুগের পর যখন কাগজ শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হল তখন পাখির পালক এর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়।

আধুনিককালে সর্বপ্রথম ১৭৮০ সালে ইংল্যান্ডে কলম আবিষ্কৃত হয়। এরপর ১৮৮৪ সালে ওয়াটারম্যান আবিষ্কার করেন ফাউন্টেনপেন। তখন এর নিব তৈরি করা হতো ১৪ ক্যারেট সোনা এবং ডগা তৈরিতে লাগত ইরিডিয়াম। এরপর ইংল্যান্ড ছাড়াও বিভিন্ন দেশে ফাউন্টেনপেন তৈরি হতে শুরু করে। বিংশ শতাব্দীতে এসে তৈরি হয় বলপয়েন্ট পেন বা বলপেন। সর্বপ্রথম বলপেন আবিষ্কার হয় ১৯৮৮ সালের ৩০ অক্টোবর। জন লাউড নামক একজন পত্রিকার সম্পাদক সর্বপ্রথম এই কলম আবিষ্কার করেন। তবে তার এ আবিষ্কার স্বীকৃতি পায়। ১৯৪৩ সালে লেডিসলাস বিরো এবং তার ভাই জর্জের হাত ধরে বলপয়েন্ট পেন বাজারকৃত হয় এবং আবিষ্কারের স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে আমরা মুলত বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করি।

কলম এমন একটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস যার প্রয়োজন রয়েছে সবখানে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে কলমেও। প্রযুক্তির উৎকর্ষে হাতে হাতে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ, কম্পিউটার অনেকটাই কলমের কাজ করে দিচ্ছে, তা বলে কলমের চাহিদা বা প্রয়োজন এতটুকুও কমেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top