চিপস

চিপস!!!
নামটা সবাই জানে আর সবার পছন্দের একটা খাবারও। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়ষ্ক লোকদেরও চিপস পছন্দের। সবারই প্রিয় চিপস। বাচ্চারা সব সময় কেউ বাইরে গেলে বলবেই চিপস কিনে দেও! সবার এতোটাই পছন্দের।
এতো প্রিয় একটা জিনিস কিন্তু এটা সৃষ্টির রহস্য টা কয়জনেই বা জানি আমরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সারাটোগা শহরে জর্জ ক্রাম নামে একজন বাবুর্চি কাজ করতো এক রিসোর্টে। এক দুপুরের কথা, একজন লোক খাওয়ার সময় অভিযোগ করলেন যে ক্রামের বানানো ফ্রেঞ্চ ফ্রাই অনেক পাতলা হয়েছে। তাই তিনি তা খাননি। ফেরত দিয়ে আসেন। ক্রাম লোকটিকে রাগানোর জন্য আরো পাতলা করে আলু কাটলেন আর মচমচে করে ভাজলেন। সেই থেকে শুরু হয় সারাটোগা চিপস বা আজকের পটেটো চিপস। পরবর্তীতে তার এই পটেটো চিপস এর নতুন সংস্করণ হিসেবে তিনি এক চিপসের রেস্টুরেন্ট দেন। প্রথম বারের মত চিপস মুদি দোকানে বিক্রি হওয়া শুরু হয় ১৮৯৫ সালে।
তবে বর্তমানে বিভিন্ন রকমের উপাদান ব্যবহার ও পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে এটির বিভিন্ন প্রকরণ তৈরি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পনির, মাংস, মাছ, মশলা, চকোলেট, টমেটো ইত্যাদি বহু স্বাদযুক্ত করে আলুর চিপস তৈরি করা যেতে পারে। নামে আলুর চিপস হলেও যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে অনেক ক্ষেত্রে আলুর পাশাপাশি, ভুট্টা, যব, ও টাপিওকা সহযোগেও এ ধরনের চিপস তৈরি করা হয়।
এটি মূল খাবার হিসেবে নয়, বরং মূল খাবারের পার্শ্ববর্তী একটি পরিবেশনা হিসবে পরিবেশিত হয়। এছাড়া নাস্তা বা স্ন্যাক্স ধরনের খাবার হিসেবেও এর প্রচলন রয়েছে।
বাংলাদেশেও আলুর চিপসের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। এ দেশের জনপ্রিয় চিপস ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে—মি. টুইস্ট, রিং চিপস, সান চিপস ও পটেটো ক্র্যাকার্স। চিপস খেতে মজাদার হলেও এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে এমন মতই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ চিপস এক ধরনের জাংক ফুড। এর মধ্যে লবণ থেকে উচ্চ মাত্রায় সোডিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ তৈরি করে। প্রচুর ক্যালরি থাকে, যা শরীরের ওজন বাড়ায়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই চিপস তৈরিতে বাজে মানের তেল ও আলুর ব্যবহার করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুরা এর শিকার হয় বেশি। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য এসব জাংক ফুড থেকে বিরত থাকাই ভালো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top