উপন্যাস

সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার মধ্যে উপন্যাস সর্বাধুনিক এবং সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় শাখা।উপন্যাস হলো গদ্যে লেখা দীর্ঘাবয়ব বর্ণনাত্মক কথাসাহিত্য। কবিতা, নাটক ও ছোটগল্পের ন্যায় উপন্যাস সাহিত্যের একটি বিশেষ শাখা। যিনি উপন্যাস রচনা করেন তিনি ঔপন্যাসিক।
উপন্যাস আধুনিক কালের একটি বিশিষ্ট শিল্পরূপ।

উপন্যাসের আক্ষরিক অর্থ হলো উপযুক্ত বা বিশেষ রূপে স্থাপন। অর্থাৎ উপন্যাস হচ্ছে কাহিনি রূপ একটি উপাদানকে বিবৃত করার বিশেষ কৌশল, পদ্ধতি বা রীতি। ‘উপন্যাস’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ novel-এর আভিধানিক অর্থ হলো : a fictitious prose narrative or tale presenting picture of real life of the men and women portrayed. অর্থাৎ উপন্যাস হচ্ছে গদ্যে লিখিত এমন এক বিবরণ বা কাহিনি যার ভেতর দিয়ে মানব-মানবীর জীবনযাপনের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়ে থাকে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর ইংল্যান্ডে প্রথম আধুনিক উপন্যাস রচিত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিভাগে বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাসের প্রবর্তন হয়। ইংরেজি ভাষায় ড্যানিয়েল ডিফো ও বাংলা ভাষায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস ধারার প্রথম সার্থক রূপকার। তারপর থেকেই বিভিন্ন দেশে এই ধারার বিচিত্র ও বহুমুখী বিস্তার লক্ষ্য করা যায়৷
উপন্যাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। কখনও তা কাহিনি-নির্ভর, কখনও চরিত্র-নির্ভর; কখনও মনস্তাত্ত্বিক, কখনও বক্তব্যধর্মী। বিষয়, চরিত্র, প্রবণতা এবং গঠনগত সৌকর্যের ভিত্তিতে উপন্যাসকে নানা শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন: সামাজিক উপন্যাস, রোমান্টিক উপন্যাস, ঐতিহাসিক উপন্যাস ইত্যাদি ৷

উপন্যাস রচনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা যায়
১. গল্প স্থির করুন, উপন্যাসের গল্প লিখে বা খসড়া তৈরী করুন৷

২.প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০০ শব্দ করে লিখুন, উপন্যাস লেখা একদিন শেষ হবে

৩.লেখার পাশাপাশি নিয়মিত পড়া, উপন্যাস লিখতে গেলে পড়াটা আবশ্যক

৪. লেখার সময় শব্দের দিকে খেয়াল রাখা, শব্দের গঠনের দিকে খেয়াল রাখা৷

৫. উপন্যাস লেখার পর কাউকে পড়তে দেয়া এবং ভুল গুলো সংশোধন করা৷

 উপন্যাস সাহিত্যের এমন একটি মাধ্যম যেখানে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার অবকাশ থাকে। এখানে লেখক প্রাণখুলে তার মতামত লিপিবদ্ধ করতে পারেন বা একেকটি চরিত্রকে প্রস্ফুটিত করতে পারেন সকল ধরনের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top