Narcissism

নার্সিসিজম- নিজেকে নিজে মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসার ফলে সৃষ্টি হয়। যারা নার্সিসিজমে আক্রান্ত তাদের নার্সিসিস্ট বলে। তারা জীবনে অন্য কাউকে সহজে অতটা গুরুত্ব দেয় না, কারো প্রতি আকর্ষিত হয় না। নিজের প্রতি নিজেই অতিরিক্ত মুগ্ধ থাকে। এর সবসময় নিজের প্রশংসা শুনতে ও করতে ভালোবাসে। যদিও সীমিত পরিসরে নার্সিসিজম থাকাটা স্বাভাবিক ধরা হয়। তবে অতিরিক্ত হলে ব্যক্তি সকল ক্ষেত্রে নিজেকেই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু মনে করে।

নার্সিসিজম এসেছে গ্রিক মিথলজি নার্সিসাস থেকে। নার্সিসাস নামক এক ব্যক্তিকে গ্রিক দেবী ইকো একদা অভিশাপ দেয় যে সে একদিন নিজের প্রেমে পড়ে মারা যাবে। একদিন সে পুকুরে পানি পান করতে গিয়ে নিজের ছায়া দেখে নিজেই প্রেমে পড়ে তাকিয়ে থাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন তাকিয়ে থাকতে থাকতে সে মারা যায় এবং একটি ফুলে পরিণত হয় যার নাম নার্সিসাস ফুল। ১৮০০সাল থেকে অতিরিক্ত আত্মপ্রেমকে মনস্তাত্ত্বিকগণ নার্সিসিজম নাম দেয়।

নার্সিসিজম রোগ সাধারণত দুই ধরনের। Grandiose ও Vulnerable। Grandiose পর্যায়ে ব্যক্তি নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে কোনো গুরুত্ব দেয় না, তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে সে মারাত্মক রেগে ওঠে, নিজেকে সবার চেয়ে ভালো দাবি করে সবসময়। Vulnerable পর্যায়ের নার্সিসিস্টরা নিজের মধ্যে এক অপ্রাচুর্যতা, অতৃপ্তিতে ভোগে, নিজেকে আরো কিভাবে ভালো রাখা যায় এই চিন্তায় মগ্ন থাকে, এজন্য তারা অন্যের ও নিজের নানারকম ক্ষতিও সাধন করে বসতে পারে। তারা অনেক বেশি হাইপারসেনসিটিভ ও ডিফেন্সিভ হয়ে ওঠে। প্যাথলজিকাল নার্সিসিজমের ক্ষেত্রে উভয় ধরনের লক্ষণই দেখা যায়। এক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি অনেক লো-সেল্ফস্টীম, সহানভূতির অভাব, নিজের প্রতি লজ্জাবোধ করা, নিজের উপর নিজে সন্তুষ্ট থাকতে পারে না। পৃথিবীতে প্রায় ১% লোক এই মাত্রাতিরিক্ত নার্সিসিজমে আক্রান্ত।

নার্সিসিজম এর চিকিৎসায় সাইকোলজিক্যাল ও মেডিক্যাল দুই ধরনের ব্যবস্থাই রয়েছে। নার্সিসিজম ডিসঅর্ডার Narcissistic Personality Disorder বলা হয়। তবে এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর চিকিৎসার ফলেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। সীমিত পরিমাণে নার্সিসিজম থাকা স্বাভাবিক। ফলে আত্মসম্মান, আতবিশ্বাস ও আত্মতৃপ্তি তৈরি হয়। কিন্তু অতিরিক্ত হলে তা ক্ষতিকর রূপ ধারন করে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি বা অনেকের সাথে দলবদ্ধ কাজে নিযুক্ত হলে নার্সিসিজম ধীরে ধীরে কমে যায়। অন্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে করতে তাদের মানসিক উন্নতি সাধন হয়। নার্সিসিজম কোনো মারাত্মক রোগ নয়। এটি একটি মানসিক ডিসঅর্ডার। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top