তৃতীয় লিঙ্গ

ভ্রমনপ্রিয় মানুষ বলে বাসে-ট্রেনে ঘুরাঘুরি বেশি হয়। প্রত্যেক বার যাওয়া আসার সময় তৃতীয় লিঙ্গের কাউকে দেখলে যে কেউ ভয় পেয়ে যায় কেউ বা বিরক্ত হয়। এইসব তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে আমরা বলি হিজরা। ঝামেলা এড়াতে আমরা টাকা দিয়ে দিতাম। কোনো প্রকার ঝগড়া করতে চাই না এদের সাথে।এই সব সাধারণ লোকদের দলে আমিও অন্তর্ভুক্ত। ফলে এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি একপ্রকার অবজ্ঞা তৈরি হয়।

রেডক্রিসন্টের একজন সদস্য হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় কাজের জন্য যেতে হতো। একবার এমনই এক বস্তিতে গেলাম। কাজের ফাঁকেই এক হিজরার দেখা পাই। প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও তার আন্তরিকতার জন্য কথা বলতে একপ্রকার বাধ্য হই। কথার এক পর্যায় আমাকে বলে, “সে নাকি পড়ালেখা শেষ করে চাকরির চেষ্টা করেছে। কিন্তু কেউ তাকে চাকরি দেয়নি। এখন নাকি সরকার আবার আমাদের অধিকার দেওয়ার কথা বলছে । কিন্তু তার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। পেটের দায়ে টাকা আদায় করে চলতে হয়।”সত্যি বলতে মানুষটার সাথে কথা বলে মনেই হয়নি খারাপ কিছু করে। আমার এতদিনের ভুল ধারণাও বদলে গেলো। অন্য যেকোনো মানুষের মত তারাও তো সাধারণ। আমরা শুধু শুধু তাদের অবহেলায় দূরে ঠেলে দিচ্ছি। আমাদের তাদের নিয়ে সমস্যা হলো তারা শুধু আমাদের থেকে টাকা চায়। তাই তো? এটা ছাড়া তো আমি আর কোনো সমস্যা দেখছি না। তারা যদি অন্য সকল মানুষের মতো তাদের অধিকারটুকু পায় তাহলে তো তারা আর কাউকে টাকা দেওয়ার জন্য বিরক্ত করবে না। এখন শুধু আমাদের উচিত তাদের পাশে থাকা আর তাদের একজন নাগরিক হিসেবে অধিকার দেওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top