আইসক্রিম

আইসক্রিম ছেলে, বুড়ো কমবেশী সকলেই পছন্দ করে৷আইসক্রিম এর জন্মস্থান মুলত চীনে ৷ ইতালীয় পর্যটক মার্কো পোলো আইসক্রিম তৈরির কৌশলটি চীন থেকে ইউরোপে নিয়ে আসেন৷ তৎকালীন সময়ে কুবলাই খানের লোকেরা ঠেলাগাড়ি করে জমাট দুধ বিক্রি করত ৷ মার্কো পোলো খাবার টি খেয়ে পছন্দ করেন এবং এই খাবারের নামই হয় আইসক্রিম ৷ ১৫৩৩ সালে আইসক্রিম প্রথম ইতালি থেকে ফ্রান্সে আসে এবং সেখান থেকে পরে যায় ইংল্যান্ডে৷ এরপর আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে৷ ১৮৫১ সালে প্রথম আইসক্রিম কারখানা তৈরি হয়৷ ১৯০০ সাল থেকে আইসক্রিমের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়৷

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আইসক্রিমের নামীদামি ব্র্যান্ড রয়েছে ৷পাশ্চাত্যের আইসক্রিম কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা হয় মূলত ফ্লেভারের সংখ্যা নিয়ে। হাওয়ার্ড জন্সন যদি তৈরি করে ২৮ রকম, তা হলে বাসকিন রবিন্স তৈরি করবে ৩১ রকম। মধ্য-পশ্চিম আমেরিকায় ‘ব্লু-মুন’ নামে নীল রঙের এক রকম আইসক্রিম আছে যা সেখানে বেশ জনপ্রিয়।

আইসক্রিমে রয়েছে ভি‌টামিন-এ, বি-৬, বি-১২, সি, ডি এবং ভি‌টামিন-ই। তাই শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি মেটাতে আইসক্রিম অত্যন্ত সুস্বাদু একটি বিকল্প।বেশ কিছু আইসক্রিমে রয়েছে ভি‌টামিন-কে যা শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে৷ আইসক্রিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট আর কার্বোহাইড্রেট যা শরীরে এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে৷ আইসক্রিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম আর ফসফরাস জাতীয় খনিজ যা হাড় শক্ত মজবুত করতে সাহায্য করে৷আইসক্রিমের মূল উপাদান হল দুধ আর দুধে রয়েছে এল-ট্রিপটোফেন যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। ফলে মানসিক চাপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।আইসক্রিম খেলে স্নায়ুতন্ত্রের উত্তেজনা সহজে প্রশমিত হয়। ফলে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ার সমস্যা বেশ খানিকটা নিয়ন্ত্রিত হয়।

আইসক্রিম মজাদার খাবার হলেও এর রয়েছে বেশ কিছু ক্ষতিকর দিক। যেমন: অতিরিক্ত আইসক্রিম খেলে দেহের ওজন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এছাড়া দাঁতের জন্যও ক্ষতিকর। আইসক্রিমে থাকে প্রচুর পরিমানে চিনি যা আমাদের শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়। তাছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আইসক্রিম রক্তের শর্করা বাড়াতে সাহায্য করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর৷ বেশি পরিমানে আইসক্রিম জাতীয় খাবার খেলে শরীরে একান্ত প্রয়োজনীয় ফাইবার,মিনারেল ও অন্যান্য উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।আইসক্রিম মানেই হল হাই ক্যালোরি,লো ফাইবার ও ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব–এই তিনের সম্মেলন। যার ফলে সহজেই হার্টের অসুখ ,স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দেয়। আইসক্রিমে থাকে কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভার, যা হতে পারে কোলন ক্যান্সার সহ আরও নানান রকম ক্যান্সারের উৎস। যারা টনসিল অপারেশন করেননি তাদের জন্য আইসক্রিম ক্ষতিকর। তাই পরিমিত আইসক্রিম খাওয়াই ভালো ৷
আইসক্রিমের ক্ষতিকর দিক থাকলেও এর উপকারিতা বেশি৷ আইসক্রিম মনকে প্রশান্ত করে তোলে এবং মেজাজ ভালো রাখে৷ শীত,গ্রীষ্ম,বর্ষা কখনোই আইসক্রিমের আবেদন কমার নয়৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top