পাখি

আকাশের দিকে তাকালে ছোট বড় কত পাখি দেখা যায়। কত বিচিত্র তাদের গায়ের রঙ। ডানা মেলে দূর আকাশে উড়ে বেড়ায়। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই পাখি দেখা যায়। কোথাও কম কোথাও বেশি।

পাখিরাও সামাজিক জীব। একসাথে ঝাঁক বেঁধে উড়ে বেড়ায়, খাবার খুঁজে, বাসা বানায়, সংকেত বা শিষের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে। সাধারনত বাসায় ডিম পাড়ে এবং বাবা-মা মিলে ডিমে তা দেয়, বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার পর বেশ কিছু দিন আগে লালন পালন করে। খাদ্য গ্রহণ, নেই কোনো আত্মরক্ষা, প্রজনন ইত্যাদির জন্য এরা অরণ্য সমভূমি, পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, খাল-বিল, সাগর সর্বত্রই গমন করে। কিছু সামুদ্রিক পাখি সারা বছর সাগরেই থাকে আর ডিম পাড়ার জন্য ডাঙায় আসে। তবে পাখিরা গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে বেশি থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। পাখিরা বেশিরভাগ দিবাচর। বহু প্রজাতি আবার কিছু পাখি খাদ্যের জন্য জোয়ার-ভাটার সময় সক্রিয় থাকে। একদল পাখি পরিযায়ী হয়। বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় এরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে।

আধুনিক যুগের পাখির বৈশিষ্ট্য হলো: এরা মেরুদণ্ডী, পালকবিশিষ্ট, দন্তহীন চঞ্চু থাকে, শক্ত খোলকবিশিষ্ট ডিম পাড়ে, চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃদপিন্ড থাকে, হালকা মজবুত হাড় থাকে, বায়ু কুঠুরি থাকে। প্রায় সব পাখিই ডানার সাহায্যে উড়তে পারে। কিছু প্রজাতি বুদ্ধিমানও থাকে। তারা ছোটোখাটো হাতিয়ার বানাতে ও ব্যবহার রপ্ত করতে পারে। তাদের জীবনধারণের জন্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রয়োজনীয় জ্ঞান সঞ্চালন করতে দেখা যায়।

পৃথিবীতে প্রায় ১০০০০টি প্রজাতির পাখি রয়েছে। যাদের পালক থাকে তাদের পাখি বলে। কিছু পতঙ্গ ও বাদুরের পাখা থাকলেও তাদের পালক নেই। পাখির ২৩টি বর্গ, ১৪২টি গোত্র, ২০৫৭টি গণ এবং ৯৭০২টি প্রজাতি রয়েছে। পাখির আবির্ভাব প্রায় ১৬কোটি বছর আগে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রজাতির পাখির আবিষ্কার হচ্ছে। পাখির পর্ব Chordata, উপপর্ব Vertibrata, শ্রেণী Aves.

অনেক পাখি বাণিজ্যিকভাবেও পালন করা হয়। ময়না, টিয়া, তোতা, চন্দনা ইত্যাদি পাখির গানের ও বাহারের জন্য কদর বেশি। পাখিদের মূলত খোলা আকাশেই মানায়। আকাশের বুকে ডানা মেলে ঘুরে বেড়ানোর স্বাদ তারা আর কোথাও পায় না। তাই পাখিদের খাঁচায় না রেখে খোলা আকাশে উড়তে দেওয়াই শ্রেয়।

তথ্যসূত্র: Wikipedia

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top