কোকাকোলা আসলে কত বড় কম্পানি?

বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম পছন্দের বেভারেজের মধ্যে কোকাকোলার নাম থাকবে না এটা ভাবাই যায় না। কিন্তু আমরা কি আসলে জানি কোকাকোলা কেনো এত সফল আর কি আছে এর পেছনের গল্প আর কি বা কারণেই কোকাকোলা বেভারেজ মার্কেটে দীর্ঘ ১৩৪ বছরেরো বেশি সময় ধরে রাজ করে আসছে।

ইতিহাসঃ

কোকা-কোলার আদি রেসিপি তৈরি হয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কলম্বাসে অবস্থিত ইগল ড্রাগ এন্ড ক্যামিক্যাল কোম্পানিতে। 

কোকাকোলার প্রথম প্রস্তুতকারক জন পেম্বারটন

 

এটি তৈরি করেছিলেন জন পেম্বারটন নামক একজন ড্রাগিস্ট। এর প্রকৃত নাম ছিলো কোকা ওয়াইন, যাকে বলা হতো ফ্রেঞ্চ ওয়াইন কোকা। তিনি সম্ভবত ইউরোপীয় ভিন মারিয়ানি নামক কোকা ওয়াইনের ব্যবসায়িক সাফল্য দেখে এরকম একটি পানীয় প্রস্তুত করতে অনুপ্রাণিত হন।
১৮৮৬, যখন আটলান্টা ও ফুলটন কাউন্টি অ্যালকোহলিক পানীয়ের বিরুদ্ধে আইন পাস করে, তখন পেম্বারটন কোকা-কোলা তৈরি শুরু করেন। এটি ছিলো মূলত ফ্রেঞ্চ ওয়াইন কোলার একটি অ্যালকোহলমুক্ত সংস্করণ। কোকাকোলার প্রথম বিক্রিটি হয় ৮ মে, ১৮৮৬ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা শহরে। এটি প্রথমে বিক্রি হয়েছিলো একটি পেটেন্টভুক্ত ওষুধ হিসেবে। প্রতি গ্লাস ৫ সেন্ট দামে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো – এরকম বিশ্বাসের কারণে পুরো যুক্তরাষ্ট্রেই এটি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাজারজাতকরণের প্রথম বছরে কোকা-কোলা বিক্রয় হয়েছিল নয় গ্লাস। বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতে কোমল পানীয় হিসেবে প্রতিদিন কোকা-কোলা বিক্রয় হয় প্রায় ১৬০ কোটি গ্লাস পেম্বারটন দাবি করেছিলেন যে, কোকা-কোলা অনেক রোগের প্রতিকার করে। যেমন: মরফিন আসক্তি, বদহজম বা অজীর্ণস্নায়ুবিক দুর্বলতামাথাব্যথাধ্বজভঙ্গ প্রভৃতি। একই বছর ২৯ মে আটলান্টা জার্নাল পত্রিকায় পেম্বারটন কোকা-কোলার প্রথম বিজ্ঞাপনটি দেন।

 

 

বিশ্বজুড়ে CocaCola র মার্কেট শেয়ার কত কেউ কি জানি আমরা?

 
হ্যা, সেই সংখ্যাটা প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার। (সোর্চঃ বিজিনেস জার্নাল) যা বান্ডউইসার, সাবওয়ে, পেপসি কিংবা কে এফ সি এর মার্কেট শেয়ার মেলালেও সমান হবে না 😉
আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সারা বিশ্বের শুধুমাত্র কিউবা ও উত্তর কোরিয়াতে কোকাকোলা বিক্রি করা হয় না। কোকাকোলার সাবসিডারি মোট ৫০০টি ব্রান্ড এর ৪৭০০টি (সোর্চঃ কোকাকোলা অফিসিয়াল সাইট) কোল্ডড্রিংক্স সারা বিশ্বে পাওয়া যায়। যার মধ্যে কোকাকোলা, স্প্রাইট, ফান্টা।

বিশ্বে তাদের একমাত্র প্রতিদন্দি পেপসি। কিন্তু মজার বিষয় হলো ১৯২২ থেকে ১৯৩৩ প্রায় ৩ বার কোকাকোলা কে প্রস্তাব করে পেপসি কে কিনে নেওয়ার জন্য কিন্তু কোকাকোলা প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করে।

কোকাকোলা তার আয়ের মাত্র ১০% প্রচারণা খাতে খরচ করে কিন্তু তারপরও কোকাকোলা সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এর একটাই কারণ SMART MARKETING STRATEGY যেখানে পেপসির এড গুলা সেলিব্রেটি নির্ভর সেখানে কোকাকোলা  তাদের এড এর মাধ্যমে সুন্দর একটা মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করে যা মানুষ এর সামাজিকতা, পরিবার সহমর্মিতাকে সম্পুর্ণভাবে আলিঙ্গন করে। তারা মনে করে সরাসরি পন্যের প্রচারণা না করে সরাসরি কাস্টমারকে এংগেজ করাটাই সবচেয়ে বড় সফলতা। একারণে পেপসি থেকে কোকাকোলার দাম বেশি হওয়া স্বর্তেও কোকাকোলা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। 

– ABDULLAH AL FAHIM

Read My Blog FahimsCanvas

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top