সাইবার বুলিং

তুলি ছোট থেকেই চঞ্চল একটা মেয়ে। গানের গলা অসম্ভব সুন্দর। স্কুলের প্রিয় মুখ তুলি। বন্ধুদের বিভিন্ন চ্যাট গ্রপেও একজন সক্রিয় সদস্য। একদিন হঠাৎ করে তার নামে গুজব ছড়ায়। কেউ একজন তার নামে একাউন্ট খুলে বিভিন্ন আজে বাজে কথা বলা শুরু করে। তুলিও অশ্লীল মেসেজ পেতে শুরু করে। সে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। কোনো কিছুতেই তার আর ভালো লাগে না।

নিপা করিম, একজন ডিজাইনার। মধ্যবিত্ত পরিবারের হলেও অনেক কষ্ট করে নিজের একটা বুটিক দেয়। ভালোই চলছিলো। কিন্তু সবার ভালো কি আর লোকেরা দেখতে পারে? তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার নামে বিভিন্ন পেজ খুলে অফার সহ অনেক খারাপ পণ্য বিক্রি করা শুরু করে। তার নামে অনেক খারাপ কথাও ছড়িয়ে পড়ে। এটা তার ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনেও খারাপ প্রভাব ফেলে।

উপরের দুটি ঘটনা শুধুমাত্র নমুনা। এরকম প্রতিদিন এরকম হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বাজে মন্তব্য, পোস্ট কিংবা কোনো উক্তিও সাইবার বুলিংয়ের মধ্যে পড়ে। কারোর ছবি বা ভিডিও বিকৃত করেও একজনকে হেনস্তা করা হয়। তার ফলাফল হয় ঐ বুলি হওয়া ব্যক্তির ডিপ্রেশনের শিকার হওয়া এমনকি আত্মহত্যাও করতেও পারে। অন্যান্য সাইবার অপরাধের মত এই সাইবার অপরাধেরও শাস্তি রয়েছে। কিন্তু তবুুও আমদের দরকার সচেতনতা ও পরিবার-পরিজনের সহযোগিতা।একটা সময় ছিল, যখন তাঁরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতেন না। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন সাইবার বুলিজমে আক্রান্ত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
যেকোনো ধরনের আক্রমণ বা বুলিংয়ের শিকার হলে জরুরি পুলিশ সেবার জন্য ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস ৯৯৯–এ কল করতে পারবেন। এটি বিনা মূল্যের।

2 thoughts on “সাইবার বুলিং”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top